বগুড়ার মেয়ে নাজনিন আক্তার (১৯) নিখোঁজের ঘটনায় নতুন তথ্য মিলেছে। পুলিশ বলছে- ঝগড়ার একপর্যায়ে নাজনিন আক্তার তার স্বামী সাকিব হোসেনকে (২৪) ‘ভিক্ষুকের ছেলে’ বলেছিল। এতে সাকিব ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে নাজনিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে নাজনিনের লাশ গুম করে।

হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে সাকিবের বাড়ির সেপটি ট্যাংক থেকে নাজনিনের শরীরের চামড়ার কিছু অংশ এবং ওড়না উদ্ধার করা হলেও এখনও পাওয়া যায়নি তার মৃতদেহ।

বগুরা সদর থানা পুলিশ গৌরনদী থানা পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার সারাদিন হরহর গ্রামে সাকিবের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক ও সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। সাকিবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এ উদ্ধার অভিযান চালায়।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুজ্জামান জানান, সাকিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে নিহত নাজনিনের ওড়না ও শরীরের চামড়ার কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে। তবে ট্যাংকে ও বাড়ির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে লাশ পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য আরও একাধিক স্থানে লাশের সন্ধানে অভিযান চলছে।

সাকিব হোসেন হরহর গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল করিমের ছেলে। সে বগুড়া সামরিক ক্যান্টমেন্টে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি করতো। নিহত নাজনিন বগুড়া সদর উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের মেয়ে। নিজের পরিবারের দারিদ্রতার কথা গোপন রেখে স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে নাজনিনকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেছিল সাকিব।

সাকিব পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে, বিয়ের পর তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা জানতে পারলে নাজনিন প্রায়ই তার সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হতো। তাকে ভিক্ষুকের ছেলে বলে গালি দিতো। এর প্রতিশোধ নিতে সে নাজনিনকে হরহর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এনে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দেয়। সাকিবের বাবা-মা এ হত্যাকাণ্ডে সহযোগীতা করেছে। তবে মঙ্গলবার উদ্ধার অভিযানের আগেই তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

বগুড়া সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, নাজনীন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে তার বাবা আব্দুল লতিফ গত ২৬ মে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারলণ ডায়েরী (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাকিব গত ২৪ মে পিত্রালয়ে অবস্থারত নাজনীকে ফোন দিয়ে বলে, তার (সাকিবের) বাবা খুব অসুস্থ। তাকে দেখতে নাজনীনকে গৌরনদীর হরহর গ্রামে যেতে হবে। সাকিব নাজনীনকে গোদাপাড়া চারমাথা বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলেন। নাজনীন তার বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে সাকিবের সঙ্গে গৌরনদীর উদ্দেশে রওনা হন। এরপর নাজনীনের সঙ্গে আর তার বাবা-মায়ের যোগযোগ হয়নি। নাজনিন ও সাকিব দুজনেরই ফোন বন্ধ পেয়েছেন তারা।

এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি জিডির তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে সোমবার সাকিব হোসেনের কর্মস্থলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসবাদ করেন। সে মিথ্যা কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেস্টা করে। পরে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সাকিব স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করে।

গৌরনদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার সকালে সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল গৌরনদী পৌঁছায়। তারা সকাল ১০টা থেকে হরহর গ্রামে অভিযান চালায়। গৌরনদী পুলিশ তাদের সহযোগিতা করছে।