প্রেমের টানে ঘর ছাড়ে তরুণ-তরুণী। মেয়ের প্রভাবশালী মা-বাবা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। সালিশ বসিয়ে প্রেমিক অসিত বৈরাগীর পরিবারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে গ্রামছাড়া করা হয়। পরে মামলা করলে অসিতের মা ও খালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানতে পেরে প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে বিষপান করে। সোমবার গভীর রাতে অসিত বৈরাগী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আর প্রেমিকা মনিরা খানম গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি।

জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের অসিতের সঙ্গে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মানি তালুকদারের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী মনিরা খানমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মনিরার মা ওড়াকান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (সংরক্ষিত) সদস্য পলি বেগম। ভালোবাসার টানে গত ২৫ মে অসিত প্রেমিকাকে নিয়ে ঘর ছাড়ে। পর দিন ইউপি মেম্বার তার স্বামী ও গ্রামের লোকজন নিয়ে সালিশ বসান। সালিশে অসিতের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে গ্রামছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সালিশের পর মনিরা বাবার বাড়ি ফেরে। ওই রাতেই মেয়েকে মামাবাড়ি হাতিয়াড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয় তার পরিবার। আর সালিশের রায় অনুযায়ী অসিতের মা লতিকা বৈরাগী ২৭ মে গরুসহ সহায়-সম্বল বিক্রি করে মেয়ের বাবার হাতে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি ছেড়ে টুঙ্গিপাড়া চলে যান। এদিকে ২৭ মে ফের প্রেমিক-প্রেমিকা আবার পালায়। এ ঘটনায় প্রেমিকার বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে অসিতের মা ও খালু পবিত্র মণ্ডলকে ধরে এনে নিজ বাড়িতে আটক রাখেন। ২৯ মে কাশিয়ানী থানায় প্রেমিকার বাবা বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও পাচার মামলা করে প্রেমিকের মা ও খালুকে পুলিশে সোপর্দ করেন। ৩০ মে পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। এ খবর জানতে পেরে ৩০ মে দুপুরে অসিত-মনিরা বাড়ি ফিরে জানায় তারা বিষপান করেছে। পরে তাদের গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অসিতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসিত মৃত্যুবরণ করেছে।

অসিতের মা লতিকা বৈরাগী বলেন, ভালোবাসার টানে ঘরছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের ওপর প্রভাবশালী ওই পরিবারটি অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। তারা আমাদের বাড়িতে আটক রেখেছে। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের জেলে পাঠিয়েছে। এটি সইতে না পেরে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বিষপান করেছে। আমার ছেলে মারা গেছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।

প্রেমিকার বাবা প্রভাবশালী মানি তালুকদার সালিশ বসিয়ে ৩ লাখ টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে ওই ছেলের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। প্রথম দফা তারা আমার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পরও ফিরিয়ে দিয়েছিল। পরে আবার তারা মেয়ের মামাবাড়ি থেকে তাকে অপহরণের পর পাচার করতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। তিনি অসিতের পরিবারকে গ্রামছাড়া বা কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি বলেও দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, মেয়ের বাবার করা মামলার তদন্ত চলছে। আমি সালিশের কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অসিতের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।