ফেসবুকে নিজের পরিচয় গোপন করে চট্টগ্রামের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ঢাকার সাভার উপজেলার সাইদুল ইসলাম সোহেল। গত ২৯ মে ওই ছাত্রীকে বিয়ের কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হোটেলে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সে। এর তিন দিন পর  মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে রাজধানীর গাবতলীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

এ ঘটনায় অপহরণকারী সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সোহেলের বাড়ি সাভার উপজেলার উত্তর মেইটকা গ্রামে। সে তার বাবার গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে সহযোগী হিসেবে কাজ করত। বিবাহিত সোহেলের একটি মেয়েও রয়েছে। মাদকাসক্ত সোহেল এর আগে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাও নিয়েছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২৯ মে সকালে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানা এলাকার বাসা থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যায় একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী। ওই দিন তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারী সোহেল। প্রথমে ওই তরুণীকে কুমিল্লা, পরে ঢাকায় হোটেলে নিয়ে আটকে রাখে সে। টাকা না দিলে ওই তরুণীকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এর পরদিন থানায় মামলা করে তরুণীর পরিবার। মুক্তিপণ নিয়ে অপহরণকারীর সঙ্গে দেনদরবারের এক পর্যায়ে এক লাখ টাকা দিতে রাজি হয় তারা। শুরুতে ১৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণীকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন বলেন, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সোহেলকে গ্রেপ্তারের পর তার বিকাশ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।