এবার ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের দুই বোনকে ভারতে পাচার করে বিক্রির খবর মিলেছে। পাচারকারী চক্রের নির্যাতনের শিকার ওই দুই তরুণী পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় পুলিশ ও বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন। তাদের একজন বর্তমানে কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় সরকারি সেফ হোমে এবং আরেকজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

গত ২৭ মে ওই দুই তরুণীর বাবা গফরগাঁও প্রেস ক্লাবে এসে ঘটনা জানান। পরে তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দুই তরুণী ২০১৯ সালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় রিদিশা ফুট অ্যান্ড বেভারেজের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন। ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। সেখানে নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য সুজন ও মো. ইউসুফের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে ওই দুই বোনের একজনকে বিয়ে করেন ইউসুফ। বিয়ের কিছুদিন পর ভালো চাকরির মাধ্যমে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে দুই বোনকে জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে যান ইউসুফ ও সুজন। এরপর তাদের তিন লাখ টাকায় ভারতের রানাঘাট এলাকায় নিয়ে বাবলু ও রাহুল নামে দু'জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। তারা পশ্চিমবঙ্গের দিঘা এলাকার বিভিন্ন বাসায় ও হোটেলে রেখে ওই দুই বোনকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করে। দুই বোনকে আলাদা জায়গায় রাখা হতো। কথামতো কাজ না করলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। বাবুল ও রাহুলের লোকজন তাদের ওপর কঠোর নজরদারি করত। পালিয়ে আসার সময় তাদের একজন গত ১৭ মে হাওড়া স্টেশন এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন। আরেকজন গত ২১ মে ভারতের বোঝাপড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন। পরে বিএসএফ তাকে পুলিশে সোপর্দ করে।

দুই তরুণীর বাবা জানান, নারী পাচারকারী দলের সদস্য সুজন ও ইউসুফ ওই দুই বোনকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার পর পরিবারের কাছে মোবাইলে টাকা দাবি করে। মাঝেমধ্যেই ভারতীয় নম্বর থেকে তাদের কাছে কল আসত। তারা জানান, দুই লাখ টাকা দিলে তাদের মেয়েদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অন্যথায় দুবাইয়ে বিক্রি করে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, মাঝেমধ্যে মেয়েদের সঙ্গে কথাও বলিয়ে দিত তারা। হুমকি দিত বাংলাদেশের কাউকে এ কথা জানালে তাদের খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেবে। তিনি দুই মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ওই তরুণীদের মামা হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে তারা গত ২৮ মে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানতে শ্রীপুর থানার ওসির নম্বরে ফোন দেওয়া হলে সাড়া মেলেনি।

নারী পাচারকারী সুজন নিজেকে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার এবং ইউসুফ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিল। তবে ওই দু'জনের বিষয়ে আর কোনো তথ্য মেলেনি। দুই তরুণীর স্বজনের সঙ্গে যে মোবাইল নম্বর থেকে কথা বলেছিল তা বন্ধ রয়েছে। 

মন্তব্য করুন