রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়জন, রাজশাহীর ছয়জন এবং নওগাঁর একজন রয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ১০ জন করোনা পজিটিভ হয়ে এবং ছয়জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ২২৫ জন ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ৩২ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৩, চাপাইনবাবগঞ্জের ১৫, পাবনার ৩ এবং নাটোরের ১ জন রয়েছেন। শুক্রবার সকালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১২ জন। তিনি জানান, দ্রুতই রোগী বাড়ছে। হাসপাতালের বেড খালি থাকছে না।

এদিকে সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রশাসনের জারি করা অনির্দিষ্টকালের কঠোর বিধি নিষেধের মধ্যেও মানুষ ঘরে থাকছে না। অকারণে অনেকেই ঘোরাফেরা করছেন। অনেকে মাস্ক পড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। চা স্টলসহ গলিতে গলিতে আড্ডা জমে উঠছে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগী ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। একারণে সবাইকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের আওতায় আনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আইসিইউয়ের ১৬টি বেড, ডাক্তারদের সংরক্ষিত বেডসহ মোট ২৩২টি বেড রয়েছে। এরমধ্যে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ আছে ২২৪টি বেডে। দুদিন ধরে রোগীর সংখ্যা বেড সংখ্যার বেশি হয়ে গেছে। এ কারণে কোনো কোনো রোগী পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। কারণ, সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। আর এবারের সংক্রমণের শিকার অধিকাংশ রোগী তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। অক্সিজেন ছাড়া তাদের বাঁচানো কঠিন।

এদিকে রাজশাহী বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৩৭২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহীতে ১১৮ জনের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০৯ জনের, নওগাঁর ২৪ জনের, নাটোরের ৩৭ জনের, জয়পুরহাটের ৩৬ জনের, বগুড়ার ১৫ জনের, সিরাজগঞ্জের ১৪ জনের এবং পাবনার ১৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার জানান, বিভাগে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৪ জন। সুস্থ্য হয়েছেন ৩১ হাজার ৭৭৫ জন। এখনও আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন ৩ হাজার ৯৭৩ জন।