সিলেটে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু হত্যা মামলা হওয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ তোলার আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে লাশ তোলা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইয়াছিন আলী।

আনোয়ারের মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় প্রেমিক শাহজাহান চৌধুরী মাহিকে বিয়ে করেন তার স্ত্রী শিপা বেগম। এমনকি আনোয়ারের লাশ দাফনের পর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। শিপার বিয়ে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও প্রেমিকের সঙ্গে আগের ফোনালাপের অডিও ক্লিপ হাতে পেয়েই আনোয়ারের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের। ফলে মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর গত মঙ্গলবার আদালতে হত্যা মামলা করেন আনোয়ারের ভাই মনোয়ার।

আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলা রেকর্ড করেই স্ত্রী শিপা বেগমকে বৃহস্পতিবার নগরীর তালতলা এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। প্রধান আসামি প্রেমিক ও শিপার বর্তমান স্বামী মাহিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি আবু ফরহাদ।

মামলার এজাহার ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার শিবেরবাজারের দীঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা তরুণ আইনজীবী আনোয়ার হোসেন নগরীর তালতলা এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকতেন। স্ত্রী শিপা বেগমের অবৈধ সম্পর্ক ছিল কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা খালাতো ভাই শাহজাহান চৌধুরী মাহির সঙ্গে। গত ৩০ এপ্রিল সেহরি খেয়ে ঘুমান আনোয়ার। পরের দিন স্ত্রী সবাইকে জানান রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার পরিমাণ কমে গিয়ে আনোয়ার মারা গেছেন। পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। পরে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে এক মাস পর গত মঙ্গলবার সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলার আবেদন করেন নিহতের ভাই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল গফুর জানান, আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় স্ত্রী শিপা বেগম জড়িত থাকার অনেক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতে হাজির করে শিপা বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। লাশ তোলার ব্যাপারেও অনুমতি চাওয়া হয়েছে।