সকাল থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা। 

রোববার চট্টগ্রামের নগরের বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুক সমান পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামীরা।রিকশার যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। 

চট্টগ্রামের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। 

রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৪৪ মিলিমিটার।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও মূলত ৯টা থেকে মাঝারি ধরণের ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়। 

শনিবার দুপুর ১২ থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭৫ দশমিক ০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। 

মৌসুমী বায়ু মিয়ানমার ও টেকনাফ অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। তার অগ্রভাগের কারণে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী এক-দুদিন আরও বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঝারি মাত্রার এই বৃষ্টিপাতে নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর, চকবাজার, কাপাসগোলা, বহদ্দারহাট, কাতালগঞ্জ, চাক্তাই, বাকলিয়া, ডিসি রোড, রহমতগঞ্জ, হালিশহর, চান্দগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। 

নগরীর কাপাসগোলায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। মুরাদপুরে প্রায় কোমরসমান পানি জমেছে। 

নগরীর বিভিন্ন সড়কে এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। 

নগরের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। তাদের বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়েছে। 

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা ডা. সীমান্ত ওয়াদ্দেদার সমকালকে বলেন, বৃষ্টিতে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছি। বাসার সামনে কোমরসমান পানি। তাই কর্মস্থলে যেতে পারিনি।

বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম বলেন, সড়ক থেকে কয়েক ফুট উঁচু মার্কেট। তবুও মার্কেটের নিচতলা তলিয়ে গেছে। মার্কেটের ভেতর হাঁটু পানি জমে আছে।

কাপাসাগোলা আবদুল হাকিম সওদাগর লেনের বাসিন্দা ডা. এস এম জসিম উদ্দিন বলেন, বাসার সামনে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর পানি জমে গেছে।

নগরের একটি বই বিপণি কেন্দ্রের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কোমরপানি মাড়িয়ে বাড়তি ভাড়া গুনে রিকশায় করে কর্মস্থলে এসেছি। একদিকে সড়কে গর্ত, অন্যদিকে কোমরপানি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে আসতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে। তিন বছরেও ঘুচেনি জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ। 

প্রকল্পটির আওতায় খালের স্লুইচ গেইট ও প্রতিরোধ দেওয়াল নির্মাণের জন্য ৩৬টি খালের বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার খালের ভেতর তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। 

খালের বাঁধগুলো না সরালে এ বছর বর্ষায় গলা পানিতে নগর ডুববে বলে আশঙ্কা করেছেন  সিটি মেয়র মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী।

এদিকে জমে থাকা পানি যাতে দ্রুত সরে যায় এ জন্য কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।