সংযোগ সড়ক উঁচু না করায় এলাকাবাসীর কোনো উপকারেই আসছে না কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলের জোড়া ব্রিজ। 

মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলের হাওদা বিলের পশ্চিমপাড়ে কুড়াগাছা ইউনিয়ন আর পূর্ব পাড়ে অরণখোলা ইউনিয়ন। 

কুড়াগাছা ইউনিয়নের মালির বাজার থেকে একটি গ্রামীণ সড়ক দুই কিলোমিটার হাওদা বিল পাড়ি দিয়ে পূর্বপাড়ে অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ী নলকূপ পাড়ায় পাকা সড়কে মিলিত হয়েছে।

এ রাস্তা দিয়ে চাপাইদ, মালিরবাজার অরণখোলা, পশ্চিম ভুটিয়া, গাছাবাড়ী ও জলছত্রসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। 

এ সড়কে হাওদা বিলের খালের উপরই নির্মাণ করা হয়েছিল জোড়া ব্রিজ। 

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় হাওদা বিলের খালে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।এলাকায় এটি জোড়া ব্রীজ হিসাবেই পরিচিত। 

এলাকাবাসী জানান, ব্রিজের উভয় পাড়ের সংযোগ সড়ক উঁচু না করায় কাজে আসছে না এ জোড়া ব্রীজ। 

কুড়াগাছার স্কুলশিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সংযোগ সড়ক উঁচু না থাকায় যানবাহন তো দূরের কথা বাইসাইকেল নিয়েও জোড় ব্রীজ পাড়ি দেওয়া খুবই কষ্টকর। 

মালিরচালা বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল রানা ও আকবর আলী সমকালকে জানান, এটি সেটেলমেন্টের পুরাতন রাস্তা। বছরের ৬ মাস এ রাস্তা বিলের পানির নিচে থাকে। আর বাকি ছয় মাস মানুষ পায়ে হেঁটে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে।

সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীকে পিরোজপুর-কাকরাইদ হয়ে ৮/১০ কিলোমিটার উল্টো ঘুরে জলছত্র পাইকারি বাজার এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কে যেতে হয়। 

কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক সমকালকে জানান, গত অর্থ বছরে কুড়াগাছা অংশের রাস্তায় মাটি ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষাকালে বিলে ১০-১২ ফিট পানি জমে।ফলে বিলের ঢেউয়ের কারণে রাস্তা ভেঙ্গে যায়। 

অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, দুই বছর ধরে এ রাস্তায় মাটি ফেলা হয়। কিন্তু বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি নামা শুরু হলে রাস্তার মাটি থাকে না। 

আব্দুর রহিম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে অরণখোলা অংশে কাবিটার আওতায় দশ ফিট উঁচু এবং বারো ফিট প্রশস্ত মাটির রাস্তার কাজ চলমান আছে। এবারের বর্ষায় এটি টিকবে কিনা কে জানে? 

কুড়াগাছা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, বিলের ওপাড়ে জলছত্র বাজারে আনারস, কলা, আঁদা, হলুদসহ কৃষি পণ্য ও ফলের নিয়মিত পাইকারি হাট বসে। 

এপাড় থেকে এসব কৃষি ফসল, সবজি ও ফল জলছত্র বাজারে নিতে বিলের রাস্তা ও সেতু হতে পারে বড় সহায়ক। 

মধুপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা বলেন, বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল এবং বিলের পানির প্রচণ্ড ঢেউয়ে এখানকার কাঁচা রাস্তা টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এজন্য প্রতি বছরই নতুন মাটি ফেলা হয়। এবার রাস্তাটি টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হবে। 

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন জানান, দ্রুত রাস্তা ও ব্রিজ দুটি চলাচল উপযোগী করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো.আব্দুর রাজ্জাক  জানান, জোড়া ব্রিজটি চলাচল উপযোগী করার জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।