জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও তার ছেলে শারুন চৌধুরীর পক্ষে-বিপক্ষে দুটি সংগঠনের মিছিল-সমাবেশে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। 

'মুক্তিযোদ্ধা'দের নাম ব্যবহার করে সদ্য গজিয়ে ওঠা দুটি সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি কঠোরভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে দুটি সংগঠন সমাবেশের ঘোষণা দিলেও পুলিশ কাউকেই সেখানে দাঁড়াতে দেয়নি। এমপির বিরুদ্ধে মাঠে নামা এক দল মানুষ নগরীর চেরাগী পাহাড় এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করে। আর এমপির পক্ষের লোকজন জামালখান মোড়ে মিছিল-সমাবেশ করে।

জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষে তার সমর্থকদের মিছিল - সমকাল 

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বুধবার দুপুরের পর থেকেই প্রেস ক্লাবের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। নগরীর কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, একই সময়ে দুই দল মানুষ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশের ডাক দেওয়ায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাউকেই সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একটি পক্ষকে জামালখান ও আরেকটি পক্ষকে চেরাগী পাহাড়ের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লাঞ্ছিত করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে একটি পক্ষ। তবে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাল্পনিক অভিযোগ এবং একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপের অর্থে হুইপের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন হুইপের পক্ষের অংশ।

'বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদ' নামের একটি সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য দেন হুইপ পরিবারের রোষানলের শিকার মুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধার সম্মান সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবু তৈয়ব, মহাসচিব জসিম উদ্দিন চৌধুরী, চৌধুরী মাহবুবুর রহমান, মাহফুজ আলম, হাবিবুর রহমান, নওশাদ মাহমুদ চৌধুরী রানা প্রমুখ।

আর হুইপের পক্ষে 'মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ' আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ ইদ্রিস, পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম শামশুজামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নবী, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ পটিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মিয়া হাসান, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশ শুরুর আগে পটিয়া থেকে বাসে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকে জামালখানে এসে নামতে দেখা গেছে।