শুধু নামাজ আর মোনাজাত নয়; মসজিদগুলো হয়ে উঠছে জ্ঞান অন্বেষণ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ আর ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার পীঠস্থান। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে এসব মডেল মসজিদ।
সরেজমিন সাভার ও মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গিয়ে দেখা যায়, চোখ জুড়ানো স্থাপত্যশৈলীর মডেল মসজিদ। দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনা স্থাপত্য শিল্পেরও অনন্য কীর্তি হয়ে থাকবে। সুপরিসর মসজিদ চত্বরে আছে নারী ও পুরুষের পৃথক অজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, ইসলামী বই বিক্রয়কেন্দ্র, ইসলামী লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, ইসলামিক গবেষণা ও দ্বীনি দাওয়া কেন্দ্র, পবিত্র কোরআন হেফজখানা, শিশু গণশিক্ষার ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি অতিথিদের আবাসন ও অতিথিশালা, মরদেহ গোসল ও কফিন বহনের সুবিধা, হজযাত্রীদের নিবন্ধনসহ প্রশিক্ষণ, ইমামদের গাড়ি পার্কিং, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিস।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে উদ্বোধন করবেন ৫০টি মডেল মসজিদের।
গতকাল বুধবার সাভারে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে এ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক শফিকুর রহমান তালুকদার জানান, মডেল মসজিদগুলোতে থাকছে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অতিথিদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা। মসজিদগুলোতে প্রশিক্ষণে থাকবে ইসলামের মহান শান্তির বাণী ও মানবতার আদর্শ তুলে ধরা। এর ফলে অসাধু চক্রের ইসলামকে ব্যবহার করে জঙ্গিবাদ ও অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টার সুযোগ আর থাকবে না।
জেলা সদরের মসজিদগুলোতে একসঙ্গে এক হাজার ২০০ মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদে ৯০০ জনের একসঙ্গে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে সারাদেশে নির্মিত হবে ৫৬০টি মডেল মসজিদ। সব মিলিয়ে এসব মসজিদে লাইব্রেরি সুবিধার আওতায় প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক পবিত্র কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামী বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সব সময় দোয়া, মোনাজাতসহ তসবিহ পড়তে পারবেন। মসজিদগুলোতে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। ইসলামী নানা বিষয়সহ প্রতি বছর এক লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। ২ হাজার ২৪০ জন বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র হজ পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নিচতলা ফাঁকা থাকবে।
উপ-প্রকল্প পরিচালক জানান, মুসলিম বিশ্বে মসজিদ স্থাপনে এত বড় প্রকল্প আর কখনও নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় এত বড় প্রকল্প গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মসজিদ স্থাপনের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১০০ মসজিদ নির্মাণ করা হবে।
তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনোই জবরদস্তি শেখায় না; কারও প্রতি আঘাত করা শেখায় না। ইসলামের সেই মহান আদর্শ ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেই গড়ে উঠছে মডেল মসজিদগুলো।
শফিকুর রহমান জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে জেলা শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিটি মসজিদ নির্মাণে ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উপকূলীয় এলাকায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
তিনি জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। এ-ক্যাটাগরিতে ৬৯টি চার তলাবিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এগুলো ৬৪টি জেলা শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৩৬০ বর্গমিটার। ১ হাজার ৬৮০ বর্গমিটার আয়তনের বি-ক্যাটাগরির মসজিদ হবে ৪৭৫টি। এগুলো নির্মিত হচ্ছে সব উজেলায়। আর ২ হাজার ৫২ বর্গমিটার আয়তনের সি-ক্যাটাগরির মসজিদ স্থাপিত হবে ১৬টি উপকূলীয় এলাকায়।

মন্তব্য করুন