হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে ১৩টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলার দ্বিতীয় আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ইমদাদুর রহমান মুকুলকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ সমকালকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুকুলকে হবিগঞ্জ কারাগার থেকে থানায় আনা হয়। সন্ধ্যার পর টানা কয়েক ঘণ্টা নবীগঞ্জ থানায় ইমদাদুর রহমান মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

গত ৭ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপলারবাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক কাওছার আলম অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা তদন্তের স্বার্থে মামলার দ্বিতীয় আসামি ইমদাদুর রহমান মুকুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

গত বুধবার দীর্ঘ শুনানি শেষে পত্রপত্রিকা, ঘটনার ছবি-ভিডিও পর্যালোচনা করে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পবন চন্দ্র বর্মণের আদালত আসামি মুকুলের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলকে গজনাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ ডালিম আহমেদ জানান, নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খায়ের, নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. ডালিম আহমেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপলারবাজার তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাওছার আলম মামলার আসামি মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

গত ৩০ মে সাতাইহাল ৬ মৌজাবাসী পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। অগ্নিসংযোগ-লুটপাটের ঘটনায় ১৩টি ঘর-বাড়ি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

এ ঘটনায় ১ জুন নোয়াগাঁও গ্রামের জামাল হোসাইন বাদী হয়ে সাতাইহাল গ্রামের নূর উদ্দিন, গজনাইপুর ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুলসহ ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

মামলা দায়েরের পর ইমদাদুর রহমান মুকুল আত্মগোপনে চলে যান। 

পরে হবিগঞ্জ থেকে অন্য জেলায় পালিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমদাদুর রহমান মুকুলকে বাহুবল-হবিগঞ্জ সড়কের মশাজান ব্রিজ এলাকায় থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ মামলায় অন্য ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।




মন্তব্য করুন