এগারো বছরের শিশু ইয়াসিন আরাফাতকে হত্যার অভিযোগে বাবা রহুল আমিন, ভাই সোহেল রানাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লালমনিরহাটের সিআইডি পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটায় তারা। তাদের সহযোগী ছিল রজব আলী নামে এক ব্যক্তি। 

ছয় বছর পর সিআইডি হত্যাকাণ্ডের এ রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে রহুল আমিন তার ভাই ও ভাতিজাদের ফাঁসাতে নিজে বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা করে। রহুল আমিন আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। শনিবার বিকেলে সিআইডির জেলা কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আতাউর রহমান আলোচিত এই হত্যা মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান। 

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে রহুল আমিনের সঙ্গে তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক ও ভাইদের বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রহুল আমিন তার শিশুসন্তান ইয়াসিন আরাফাতকে ঘুম তুলে পার্শ্ববর্তী ভুট্টা খেতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে ছেলে সোহেল রানা ও বন্ধু রজব আলী। পরে মরদেহ রহুল আমিনের ছোট ভাই আবু তাহেরের গোয়ালঘরের পেছনে ফেলে রাখা হয়। নিজেদের আড়াল করতে ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন রহুল আমিন। মামলার পর থেকেই রহুল আমিন পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে থাকেন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আতাউর রহমান জানান, নিহত আরাফাতের জানাজার সময় বড় ভাই সোহেল রানা থরথর করে কাঁপছিলেন। এই কথার সূত্র ধরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে সোহেল রানা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে রজব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মামলার বাদী রহুল আমিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় আলোচিত ইয়াসিন আরাফাত হত্যা মামলার রহস্য।