চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সে নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ৩৫০টি দোকান উচ্ছেদ করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সিডিএর মালিকানাধীন বিপণিবিতানটি ভাড়া নিয়েছে সিটি করপোরেশন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বিপণিবিতানটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শামীম করপোরেশনকে দেওয়া হয়। 

এরপর নকশাবহির্ভূতভাবে আলো-বাতাস চলাচলের জন্য রাখা খালি জায়গা ও পার্কিংয়ের স্থানে ইস্পাত দিয়ে এলোপাতাড়ি দোকান নির্মাণ করে বরাদ্দ দেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ ইসমাইল।

বিপণিবিতানটির সৌন্দর্যবর্ধনের ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে গত বছরের অক্টোবরে প্রতিবেদন দিয়েছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। 

সমকালে গত বছরের সেপ্টেম্বরে 'চসিকের মার্কেট দখল করে ইসমাইল কোটিপতি' ও নভেম্বরে 'অনিয়মের বিপণিবিতানে বিনিয়োগ করে বিপদে' শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুর রহমান হাবিবের গত ৩ জুন স্বাক্ষর করা চিঠিটি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, নির্দেশনাটি সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে। এখন সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাদের পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে সিডিএ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময় নগরের ষোলোশহর এলাকায় প্রায় তিন একর জায়গার ওপর এই দ্বিতল বিপণিবিতান নির্মাণ করা হয়। বিপণিবিতানের ভূমির মালিক সিডিএ। সিটি করপোরেশন চুক্তিতে জায়গা ভাড়া নিয়েছিল।

সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সময় বিপণিবিতানটির সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিপণিবিতানের খালি জায়গায় এবং ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে দোকান নির্মাণ করে বরাদ্দ দেয়। আগে ওই বিপণিবিতানে প্রায় ৩৮০টি দোকান ছিল। নতুন করে সেখানে আরও ৩৫০টি দোকান নির্মাণ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এর নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন করে প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সে কমিটি শপিং কমপ্লেক্সে বর্ধিত স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে কিনা তা জানতে চুয়েট বা বুয়েট দ্বারা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগেই গত বছরের অক্টোবরে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর অনুমতি দেয় সিটি করপোরেশন। এ নিয়ে তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।