বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা উপজেলার দুর্গত এলাকায় ত্রাণ দিতে গেলে পুলিশ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে 'অশালীন ও অভদ্র আচরণ' করেছে। এমনটা তিনি তার ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দেখেননি। বিএনপির ত্রাণবহরে হামলা, নেতাদের নামাজ ও দুপুরে খাবারে বাধা দেওয়ার ঘটনা পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

রোববার দুপুরে নগর বিএনপি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। লিখিত বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জু বলেন, গত ১২ জুন খুলনা জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বিএনপি। ওই দিন সকাল ১১টায় কয়রা উপজেলার কালনা আমিনিয়া মাদ্রাসায় ৫৫০ জনের মধ্যে ত্রাণ হস্তান্তর করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে ফিরে আসার পথে হঠাৎ করেই পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের অনুমতির কথা বললেও পুলিশ কটূক্তি করে। দারোগা মিন্টু ও সাইফুল গালাগাল ও লাঠি নিয়ে মঞ্জুসহ সিনিয়র নেতাদের দিকে তেড়ে যায়। বিএনপির তিনটি গাড়ির চালকদের গ্রেপ্তারের হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ চালকদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে নেতাদের বহন করা গাড়ি দূরে সরিয়ে দেয়। পরে বিএনপি নেতারা ভ্যানে করে তিন কিলোমিটার দূরে কমরউদ্দিন কলেজের সামনের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায়ের জন্য গেলে পুলিশ মসজিদে ঢুকতেও বাধা দেয়। এ সময় লাঠিচার্জে ত্রাণকর্মী শামিম আশরাফ ও মেহেদী হাসান মিলন আহত হন। বিকেলে পাইকগাছায় ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি থাকলেও সেখানে পুলিশ তাদের ঢুকতে দেয়নি।

মঞ্জু বলেন, যুদ্ধ চলাকালেও পৃথিবীর কোথাও ত্রাণ কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করার নজির নেই। তিনি দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম বিনা বাধায় পরিচালনা করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি, শেখ মুশাররফ হোসেন, জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আবদুর রশিদ, মোল্লা খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

অভিযোগ অস্বীকার করে কয়রা থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতারা সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বিতরণ করে চলে গেছেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি। সেখানে লাঠিপেটার ঘটনা কেন ঘটবে? হয়তো ত্রাণ নিতে আসা লোকজনের অনেকেই ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সে দায় পুলিশের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন তারা।

বিষয় : বিএনপি নেতা পুলিশ খুলনা

মন্তব্য করুন