গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় দু'দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সোমবার উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কাকডাঙ্গা নিবাসী আবু ছাইদ শিকদারের সাথে একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কামরুল ইসলাম ফকিরের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছাইদ সিকদারের লোকজন নিয়ে সোমবার বিকেলে কামরুল ইসলাম ফকিরের উপর হামলা চালায়। এই হামলার পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।

এদের মধ্যে গুরুতর কামরুল ইসলাম ফকির (৪২), কলিমুলতাহ ফকির (২৮), মিজানুর রহমান ফকির (৩৪), ফরমান ফকির (৪২), ওসিকুর ফকির (৫০), নাজমুল ইসলাম ফকির (২৮), দ্বীন ইসলাম ফকির (২৪), ফরিদ ফকির (৫৫), মানিক ফকির (৫০), মোতাহার হোসেন ফকির (৪০), ওমর ফারুক ফকির (৪২), আমির আলী ফকির (৬৫), মিনহাজ ফকির (২৫), কাবুল শিকদার (২৫), মজনু ফকির (২৮), এবাদুল শিকদার (২১), মোকছেদুল শিকদার (৪৫), মামুন শিকদার (২৭), আমজাদ শিকদারকে (৪০) উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

কামরুল ইসলাম ফকির বলেন, আমাদের গ্রামে আমি আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামানের নামে একটি স্কুল করেছিলাম। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল এই স্কুলটি ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছাইদ শিকদার তার লোকজন নিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এরপর আমি একটি মামলা করি। এই মামলায় পিবিআই তাকে দোষী প্রমাণিত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর থেকে আবু ছাইদ শিকদার আমাকে বিভিন্ন সময়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছাইদ শিকদার বলেন, কামরুল ইসলাম ফকিরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার কোন লোকজনের সঙ্গে কামরুল ইসলাম বা তার লোকজনের সাথে কোন প্রকার সংঘর্ষ হয়নি। জুলফিকার শিকদার ও হাসান শিকদারের মধ্যে দোকান ঘরের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে কামরুল ইসলাম জুলফিকার শিকদারের পক্ষ নিয়ে ছিল। এখানে ফকির বা শিকদার বংশের মধ্যে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। কোন পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।