মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা এক নারী ও তার কথিত বাবা-মাকে জাতীয়তা এবং জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এরই মধ্যে কথিত বাবা-মা এসব সনদ ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন- সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালি, ওয়ার্ড কার্যালয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত, দালাল সিরাজুল ইসলাম, ২৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী অহিদা এবং তার কথিত বাবা-মা মোহাম্মদ ইসমাইল ও মেহেরজান। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নারী অহিদা ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর দালাল সিরাজুল ইসলামকে নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ আঞ্চলিক অফিসে পাসপোর্ট করতে যান। সিরাজুল ইসলামকে সন্দেহ হওয়ায় তাদের আটক করেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। এরপর রোহিঙ্গাদের সফটওয়্যারে অহিদার ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করা হয়। এতে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলে যায়। তিনি নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেন। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক অনুসন্ধানে নেমে তথ্য পায়, পাসপোর্টের আবেদনে অহিদা তার বাবা-মায়ের নাম মোহাম্মদ ইসমাইল ও মেহেরজান উল্লেখ করেন। কিন্তু তারা তার প্রকৃত বাবা-মা নন। ইসমাইল ও মেহেরজানও রোহিঙ্গা। তারা দুইজনই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে চলে যান। অহিদা, ইসমাইল ও মেহেরজান- তিনজনই চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা ওয়ার্ড থেকে জাতীয়তা ও জন্মসনদ পেয়েছেন এবং কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে আবেদন করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পাশাপাশি ভোটার তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের সবার জাতীয়তা ও জন্মসনদে কাউন্সিলর হিসেবে মোহাম্মদ ইসমাইল বালির স্বাক্ষর আছে। অহিদার পাসপোর্ট আবেদনেও তার পরিচিত হিসেবে সত্যায়িত করেছেন ইসমাইল বালি। এছাড়া চাচা সেজে অহিদাকে পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যান আসামি সিরাজুল ইসলাম। তিনি মূলত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি সাজিয়ে জাতীয়তা, জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। অহিদা, মেহেরজান ও ইসমাইলকে এসব সনদ পাইয়ে দিতে 'দালাল' হিসেবে কাজ করেন সিরাজুল।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা একে অন্যের সহায়তায় লাভবান হয়ে এবং অন্যকে অন্যায়ভাবে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় ও নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য জাতীয়তা সনদ ও জন্ম সনদ তৈরি করেন এবং পাসপোর্ট ও এনআইডি পাওয়ার পথ তৈরি করেন। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড পাথরঘাটা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইসমাইল বালি ২০১০ সালে ও ২০১৫ সালে দুই দফায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে কেন্দ্রে ঢুকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।