ফরিদপুরে করোনা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৯০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে জেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরিদপুর পৌরসভাকে পুরোপুরি কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার চিন্তা করছে পুলিশ। 

ফরিদপুর করোনা শনাক্তকরণ ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ২৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে ৯০ জন। করোনা শনাক্তের হার ৩৫ দশমিক ১৫ ভাগ। সোমবার করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৭৫। রোববার শনাক্তের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০৬ ভাগ। 

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, লকডাউন দেওয়ার ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক বেলাল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি জেলার করোনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিই এ ব্যাপারে সর্বময় ক্ষমতা নেওয়ার অধিকারী। জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে লকডাউন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বুধবার আবেদনপত্র দেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে সোমবার পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১৭৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৩৪৭ জন। করোনায় ফরিদপুরে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১৮৯ জন। এর মধ্যে ফরিদপুরের বাসিন্দা ৬৯ জন। বাকিরা আশেপাশের বিভিন্ন জেলার।

ফরিদপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এ হাসপাতালে ৮৫ জন করোনা শনাক্ত রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭ জন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ফরিদপুরকে লকডাউনের আওতায় আনতে হবে। তবে পুরো জেলা লকডাউন দেওয়া হলে তা কার্যকর করা কষ্টসাধ্য। তবে খারাপ অবস্থার বিবেচনায় ফরিদপুর পৌরসভা এলাকা কঠোর লকডাউনের আওতায় আনতে হবে। তবে প্রস্তুতি হিসেবে দুই তিনদিন মাইকিং করে এ পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।