ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার পর বাগেরহাটের শরণখোলার চরাঞ্চলের চার শতাধিক পরিবার বিপাকে পড়েছেন।

শরণখোলার মূল বাঁধের বাইরের বগী-শরণখোলা ভারাণী খালের পাড়ে রিং বেড়ি বাঁধটি গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ভেঙে যাওয়ার পর সেটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয়। সেই বাঁধটি আবার গত ২৬ মে ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যায়।  

ভাঙ্গন থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে শত শত ঘর বাড়ি,পুকুর প্লাবিত হচ্ছে। প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমিতে নোনা পানি জমে আছে। চাষাবাদের মৌসুম শুরু হলেও তা করতে পারছেন না চাষীরা। 

সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবন লাগোয়া দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া, পূর্ব খুড়িয়াখালী ও শরণখোলার চরাঞ্চলের এসব পরিবারে ঠিকমতো চুলা জ্বলছে না ঘূর্ণিঝড় ইয়ারে পর থেকে। 

প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের ঘরে খাবার থাকলেও ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় চুলা জ্বলছে না।

দুর্ভোগে পড়া দক্ষিণ চালিতাবুনিয়া গ্রামের জোহরা বেগম (৭০), রেনু বেগম (৫৫), মনির তালুকদার (৫০), দেলায়ার আকন (৫২), পূর্ব খুড়িয়াখালী গ্রামের নূপুর বেগম (২৮) জানালেন দুর্ভোগের কথা।

রেনু বেগম বলেন, ‘আমরা যে কি অবস্থায় আছি তা কেউ খোঁজ লয় না। ভোটের সময় আমাগো লাগে, কিন্তু এই বন্যায় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আইজ পর্যন্ত কেউ আসে নাই। আমরা ডুইব্যা মরি, অথচ বান্দা (বাঁধ)  মেরামতের কোনো ব্যবস্থা করে নাই।’ 

ভুক্তভোগীরা জানান, গত ২০ দিন ধরে চুলা জ্বলছে না তাদের ঘরে। শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে। গোসল সারতে হচ্ছে নোনা পানিতে। 

চালিতাবুনিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর খলিফা জানান,বাঁধ মেরামতে অর্থ বরাদ্দের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন সমকালকে বলেন, রিং বাঁধটি মেরামতে ইতিমধ্যে টেস্ট রিলিফ (টিআর) থেকে একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ভেঙে যাওয়া রিং বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।