বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেসেজ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমাকে বহিষ্কার করা হয়নি, তুনি শান্ত থাক, নিজের শরীরের যত্ন নিও। কোম্পানীগঞ্জের সকল সমস্যার সমাধান অচিরেই হবে।’

কাদের মির্জা মঙ্গলবার রাতে তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ২৪ মিনিটের বক্তব্যে এইসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা বলাবলি করতেছে- আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর ব্যাপার। আমাকে কেন দল থেকে বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে আনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, চক্রান্ত হয়েছে। এতো কিছুর পরও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জের অপরাজনীতির হোতারা যে সমস্যা সৃষ্টি করেছে, তা যদি আরও আগ থেকে হস্তক্ষেপ করা হতো, এই সমস্যার সমাধান হতো। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে খারাপ মানুষদের বের করে দিলে যেমন প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হয় না, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সকল খারাপ মানুষ আছে তাদেরকে বের করে দিলে দলের কোনো ক্ষতি হবে না বরং আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে। কোম্পানীগঞ্জের শান্তির স্বার্থে যেন এই সমস্যার অচিরেই অবসান ঘটে। এটা আমি প্রত্যাশা করি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলের রাজনীতির অনুপস্থিতিতে সরকারি দলের রাজনীতি ও নীতি নৈতিকতা এমন এক পর্যায় পৌঁছেছে যে, এখন রাজনীতি করার মতো পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।’

কাদের মির্জা আরও বলেন. ‘এখানে দুইজনকে হত্যা করে মায়ের বুক খালি করা হয়েছে। আমার পৌরসভা কার্যালয়ে দুই হাজার গুলি করা হয়েছে, আমাকে ছয়বার হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে, আমার ছেলের মাথা ফাটিয়ে চৌচির করা হয়েছে, আমার বাবাকে রাজাকার বলা হয়েছে। আমি এইসব বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর বলেছি তাদের বিষয়ে আমি কঠিন বিচার চেয়েছি। আমি আশাবাদী এর সু-বিচার দলের কাছে পাবো।’

এর আগে গত ১৩ জুন দুপুরে কাদের মির্জা তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে দল থেকে বহিষ্কারের আভাস পেয়ে নিজেই আওয়ামী লীগ ও মেয়র পদ থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার জীবনে হয়তো জনপ্রতিনিধি হিসেবে আজ শেষ দিন। এ জন্য দাপ্তরিক কাজ শেষ করার উদ্দেশে অফিসের ফাইলগুলো স্বাক্ষর করে দিয়েছি।

বিষয় : বসুরহাট পৌরসভা আবদুল কাদের মির্জা বহিষ্কার

মন্তব্য করুন