ফরিদপুরের মধুখালীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকড়াইল বাজারের চৌরাস্তায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মানববন্ধনে নিহতের বাবা হিরু মিয়া বলেন, ১১ দিন আগে নৃশংসভাবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার পর থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

নিহতের মেয়ে ঢাকার ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার বাবা সারাজীবন সততার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন। তিনি কারও ওপর কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। গ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেন, মাদক ব্যবসা ও নারী পাচারে জড়িত মামুন জাহাঙ্গীরকে হত্যার আগেও এলাকায় একাধিক অপকর্ম করেছে। মামুন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

মানববন্ধনকালে আরও বক্তব্য দেন কামালদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউনুস মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউল ইসলাম, হানিফ শেখ, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মনজু মণ্ডল, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সাত্তার মণ্ডল প্রমুখ। খুনিদের বিচার চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেয় নিহতের চার বছর বয়সী শিশুপুত্র শাফিন মাহমুদ সামী ও ছোট মেয়ে ঢাকার ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান প্রীতি।

এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সিআইডি দেখছে। আমাদের সহায়তা চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।

ফরিদপুরের সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান মিনা বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫ জুন দুপুরে মধুখালী থেকে নিজ গ্রাম মাকরাইল ফেরার পথে জাহাঙ্গীর হোসেনকে দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ওই রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হিরু মিয়া বাদী হয়ে ওয়ালিদ হাসান মামুন নামের একজনকে প্রধান আসামি করে ও ১৬ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় হত্যা মামলা করেন।