মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চাঁদপুরে দ্বিতীয় ধাপে ১০৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে জমিসহ ঘর। এক টাকা সালামিতে এসব পরিবারকে দুই শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুন জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক অঞ্জন খান মজলিশ।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৭টি, কচুয়ায় ২টি, মতলব উত্তরে ৩০টি, হাজীগঞ্জে ১০টি, শাহরাস্তিতে ৩০টি এবং হাইমচরে ২০টি পরিবারকে এ ঘর দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এসব ঘরের অধিকাংশেরই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা এ ঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেস।

বর্তমানে জেলায় ক শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৬১৭টি। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১১৫টি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৫টিসহ ১৬০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১০৯টি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২৫টিসহ ৪৩৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। খাস জমি উদ্ধার করে জেলায় আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ক শ্রেণির পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে স্থান নির্বাচন, মাটি ভরাটসহ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের বেতনের টাকায় চাঁদপুরে ২টি পরিবারকে, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান প্রধান সংস্থার পক্ষ থেকে ২৫টি ঘর দেয়া হয়েছে। এগুলোসহ বেসরকারিভাবে ১১৮টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই চাঁদপুর জেলাতেও যেন একজন মানুষও গৃহহীন না থাকে, সেজন্য আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যেই ১৬১৭টি ভূমিহীন এবং গৃহহীন পরিবারের তালিকা করেছি। খাস জমি উদ্ধার করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে ঘর দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদপুর জেলায় নিষ্কন্টক খাস জমি অপ্রতুল হলেও জেলার ৪ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে ২টি করে ৮টি উপজেলায় নিস্কন্টক খাস জমি খুজে বের করাসহ এ সংক্রান্ত সকল কাজ মনিটর করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে। কারণ এই ঘরগুলো গৃহহীন পরিবারের মাথার উপরে একটি ছায়া হবে।  তারা যেন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট না পায়। তাই ১ টাকার সালামীতে তাদের ঘরগুলো দেয়া হয়েছে। সেই সাথে জমি রেজিস্ট্রেশন স্বাপেক্ষে নামজারি করে তা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘরগুলো যাদেরকে দেয়া হয়েছে তারা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসিম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) ইমতিয়াজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশাসহ সাংবাদিকবৃন্দ।


বিষয় : মুজিববর্ষ চাঁদপুর ভূমিহীন গৃহহীন জমি

মন্তব্য করুন