চুরির অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন (২১) নামে এক দিনমজুর যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। অমানসিক নির্যাতনের কারণে পানির জন্য ছটফট শুরু করলে এসময় তাকে প্রসাব খাইয়ে দেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বগুড়া সদর উপজেলার শিকারপুর পূর্বপাড়া গ্রামে। নির্যাতনের শিকার যুবক ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে। একটি প্রভাবশালী মহল তাকে বুধবার সকালে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে দিনভর একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিত যুবকের পরিবার জানায়, টাকা চুরির অভিযোগে বুধবার সকাল ৯টার দিকে একই গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আইনুল ইসলামের নেতৃত্বে রঞ্জন, সালমা বেগম, ভোজোসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের ৬/৭ জন সাদ্দামকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আইনুলের বাড়িতে আটকে রাখে। তার হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে বেধড়ক মারপিট ও নির্যাতন করা হয়। চুরির কথা স্বীকার না করায় আরও নির্যাতন করা হয় সাদ্দামকে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাদ্দাম অভিযোগ বলেন, অমানসিক নির্যাতনের কারণে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। পানির পিপাসা লেগেছিল খুব। এসময় পানি চাইলে তারা আমাকে প্রসাব খায়িয়ে দেয় জোর করে।

একপর্যায়ে সাদ্দামের মা জরিনা বেওয়া ও বোন রানু বেগম ঘটনাটি লোকমুখে শুনে আইনুলের বাড়িতে ছুটে যান। এসময় তারা সাদ্দামের মা-বোনকেও মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে জরিনা বেওয়া বগুড়া সদর থানায় গিয়ে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১০টার দিকে সাদ্দামকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্যাতনকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সাদ্দামের মা বাদী হয়ে আইনুল ইসলামসহ চারজনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন।  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বগুড়া সদর ও মিডিয়া) ফয়সল মাহমুদ সমকালকে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, ঘটনাটি জানার পর সাদ্দামকে গিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তদের ধরতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিষয় : চুরি নির্যাতন বগুড়া

মন্তব্য করুন