বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাষীরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ বছর ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হবে জেলার আম ব্যবসায়ীদের। 

স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছে।

তবে করোনাভাইরাসে কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আমের বাজারে মন্দা যাচ্ছে বলে জানান চাষীরা।

আমের ব্যবসায় লোকসানের হতাশা থেকে গত বুধবার উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে লালচাঁদ নামে এক আম চাষী আত্মহত্যা করেছেন বলে সমকালকে জানান নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য হাসান আলী। 

তিনি বলেন, ‘আমের ব্যবসায় লোকসানে পড়ে লালচাঁদ মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। এর আগেও তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে বুধবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।’

উপজেলার চককীর্ত্তি গ্রামের আম চাষী জাহাঙ্গির বিশ্বাস জানান, গত ৫ বছরে আমের ব্যবসায় তিনি ২০ লাখ টাকা লগ্নি করেছিলেন।এখন তিনি সর্বস্বান্ত।

উপজেলার একজন কৃষক জানান, তিনি গত বছর খিরসাপাত ও ল্যাংড়া আম ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন। তবে এ বছর ক্রেতা না থাকায় স্থানীয় আড়তদারদের কাছে ১ হাজার টাকা মণ দরে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

চাতরার আম বাগান মালিক মোজতাবা আলম বাদল জানান, তিনি কোনো বাগানই এ বছর বিক্রি করতে পারেননি। আম পেড়ে বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে গড়ে ৭০০ টাকা মণ দাম পাচ্ছেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘বাগান পরিচর্যার খরচ সব লোকসান গেছে। কিন্তু উপায় নেই।আম তো পেকে যাচ্ছে।দাম না থাকলেও তো বেচতে হবে।’

অন্যদিকে স্থানীয় বাজারগুলোর আমের আড়তদারদের দাবি,কম দামে আম কিনেও তারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

শিবগঞ্জের আম আড়ৎদার আব্দুল সামাদ বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম শুনেই বাইরের মোকামগুলোতে দাম কমিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া বাইরের ক্রেতাও আসছেন না।তাই নিজেদের টাকায় রিক্স নিয়েই আম কিনতে হচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অ্যান্ড কমার্সের সাবেক পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘এ বছর করোনার প্রভাবে অন্তত ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হবে জেলার আম ব্যবসায়ীদের।’

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান,কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও আম সংশ্লিষ্ট সবকিছুই খোলা ছিল। আম পরিবহনে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন  মাত্র দেড় টাকায় ঢাকায় আম পরিবহন করছে। 

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বাইরের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনলাইনে কৃষকদের অভ্যস্ত হতে হবে। যারা অনলাইনে আম বাজারজাত করছেন, তারা তুলনামূলক বেশি আম বিক্রি করতে পারছেন।’



বিষয় : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ আম

মন্তব্য করুন