বাংলাদেশের বিপন্ন মাছের তালিকায় থাকা ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০তম মাছ হিসেবে রানী মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। সোমবার রানী মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্যের তথ্য জানানো হয় বিএফআরআইর ময়মনসিংহ কেন্দ্র থেকে। গবেষণা শুরুর মাত্র এক বছরের মাথায় এ সাফল্য অর্জন করেন বিজ্ঞানীরা।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহ স্বাদু পানি কেন্দ্রে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গবেষক দলে ছিলেন ড. সেলিনা ইয়াছমিন, মো. রবিউল আওয়াল, ড. এএইচএম কোহিনুর ও ড. মো. শাহ আলী। স্বাদু পানির বিলুপ্তপ্রায় ছোট মাছের মধ্যে রানী মাছ অন্যতম। এ মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ভুটান ও মিয়ানমারে এ মাছ পাওয়া যায়। রানী নামে পরিচিত হলেও অঞ্চলভেদে এ মাছটিকে বেটি, পুতুল ও বেতাঙ্গী নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশে এ মাছের দুটি প্রজাতি রয়েছে (ইড়ঃরধফধৎরড় এবং ইড়ঃরধষড়যধপযধঃধ)। এক সময় বাংলাদেশের খাল-বিল, নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় ও প্লাবনভূমিতে এই মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয় সংকোচন, পানি দূষণ এবং অতি আহরণের ফলে মাছটির বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় এর প্রাপ্যতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আইইউসিএন রানী মাছকে বিপন্ন প্রজাতির মাছ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহ স্বাদু পানি কেন্দ্রে গত বছর রানী মাছের সংরক্ষণ, প্রজনন ও পোনা উৎপাদন বিষয়ে গবেষণা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রজননের জন্য রানী মাছ যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও কংশ নদী এবং নেত্রকোনার হাওর থেকে সংগ্রহ করে গবেষণা কেন্দ্রের পুকুরে প্রতিপালন করা হয়। গবেষণার আওতায় চলতি জুন মাসে দেশে প্রথমবারের মতো রানী মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের ফলে রানী মাছকে চাষের আওতায় আনা যাবে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, বিপন্ন মাছ পাতে ফেরাতে তারা কাজ করছেন। গবেষণার ৩০তম সাফল্য হিসেবে রানী মাছ এসেছে। চলতি বছরে ইনস্টিটিউট থেকে ১০টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের গবেষণা চলমান। পর্যায়ক্রমে বিপন্ন প্রজাতির সব মাছকে খাবার টেবিলে ফিরিয়ে আনা হবে।

বিষয় : মাছের কৃত্রিম প্রজনন রানী মাছ

মন্তব্য করুন