ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাজেদুর রহমানসহ ১৯ জনের নামে দায়ের করা মামলার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের এমপি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেছিলেন। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় ১৯ জনের নাম ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও দেড়শ' জনকে আসামি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগটি আমলযোগ্য না হওয়ায় শুনানি শেষে বিকেলে তা খারিজ করে দেন বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসানের আদালত।

মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামিরা ফেসবুক পেজ, ফেসবুক আইডি, নিউজ পোর্টালে নানা অপপ্রচার চালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। এসব ঘটনার জন্য সাংসদ উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ওপর দায় চাপানো হয়।

মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির সদস্য মোবারক উল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হাসান, বোরহান উদ্দিন কাসেমী, আলী আজম, এরশাদুল্লাহ, জুনায়েদ কাসেমী, নোমান আল হাবিবী, মমিনুল হাসান, সোলেমান মোল্লা, এনামুল হক, আবদুল হাকিম, মঞ্জুরুল হক, খালেদ মোশাররফ, জোবায়ের আহমদ, শাহরিয়ার আহমেদ, হোসাইন আহমেদ, মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ কাওসার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। 

এর মধ্যে মাত্র ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি সবাই অজ্ঞাতনামা আসামি। ৫৬ মামলার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় চারটি, সরাইল থানায় দুটি ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।