করোনার টিকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চট্টগ্রামের প্রবাসী শ্রমিকরা। টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতের দাবিতে মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে তিন দফা দাবিতে কার্যালয়ের কর্মকর্তার হাতে স্মারকলিপি দেন প্রবাসীরা।

দাবিগুলো হলো- সুরক্ষা অ্যাপ চালু করে প্রবাসীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসার ভিত্তিতে নিবন্ধন এবং জরুরি ভিত্তিতে দুই ডোজ টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা।

প্রবাসীরা জানান, করোনার টিকাদান কার্যক্রমে বিদেশগামী প্রবাসীদের তিন নম্বরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ে ঘুরছেন তারা। টিকার বিষয়ে কোনো সমাধান মিলছে না। জটিলতা ছাড়া করোনার টিকা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

প্রবাসী ইয়াসিন চৌধুরী, রেজাউল করিম, মো. নেওয়াজ ও নুরুল আজিম জানান, ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন তারা। টিকা না দেওয়ায় বিদেশে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। দ্বিতীয় দফা টিকাদান শুরু হওয়ার পর টিকা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারা। সেখান থেকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে গেলে তারা জানান, জনশক্তি কার্যালয় অনুমতি দিলে কর্তৃপক্ষ তাদের টিকা দিতে পারবে। পরে তারা জনশক্তি কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বলা হচ্ছে, নিবন্ধনের পর মিলবে টিকা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরছেন তারা। তবুও কোনো দিশা মিলছে না।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের উপপরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, 'একটি ভুল বার্তা পেয়ে প্রবাসীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তারা চলে গেছেন। বিষয়টি হচ্ছে- সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের পর প্রবাসীরা টিকা পাবেন। এখন নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এটি চালু না হওয়া পর্যন্ত প্রবাসীদের অপেক্ষা করতে হবে। সুরক্ষা অ্যাপ চালু হলেই প্রবাসীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন। এতে জনশক্তি কার্যালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।'