সিলেটে কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ফারহানা আহমদ চৌধুরী পূবালী ব্যাংক সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার। তিনি পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনের স্ত্রী। 

বুধবার দুপুরে নগরীর উপশহরের ই-ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর বাসা ফিরুজা মঞ্জিলের চার তলার বাথরুমে তিনি গৃহকর্মী রুনা আক্তারকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। ফারহানা চৌধুরী গৃহকর্মীর শরীরে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ফারহানাকে আটক করে শাহপরাণ থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও থানায় যান। বুধবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় উভয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সমকালকে জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার ও গৃহকর্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নির্যাতনের কোনো প্রমাণ মিলেনি। মেয়েটি বাড়িতে যাওয়ার বায়না ধরলে গৃহকর্ত্রী তাকে ভয় দেখিয়েছিলেন। রুনাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হবে।

বুধবার দুপুরে ওই বাসা থেকে গৃহকর্মী রুনার কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের বাসিন্দারা প্রথমে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পরে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তালাবদ্ধ বাথরুম থেকে রুনাকে উদ্ধার করে। ওই বাসা থেকে বিকেল ৪টার দিকে রুনা ও গৃহকর্ত্রী ফারহানাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে সিলেটে তোলপাড় চলে।

মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, সকালে জৈন্তাপুরে একটি অভিযানে গিয়েছিলাম। এর ভেতরেই এমন ঘটনার কথা শুনে বাসায় এসেছি। তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে মেয়েটি বলছিল বাড়িতে যাবে। যার মাধ্যমে মেয়েটিকে আনা হয়েছিল, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তার আসার কথা।

থানায় অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ফারহানা আহমদ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে রুনা ভয় পাচ্ছে আর বলছে কেউ নাকি তাকে স্পর্শ করছে। সকালেও একই কথা বলে বাথরুমে ঢুকে কান্না শুরু করে। ওই সময় গিয়ে জিজ্ঞেস করলে মরিচ দেওয়ার কথা বলে। মরিচ দিলে নাকি ওই অদৃশ্য বিষয়টি চলে যাবে। তিনি বলেন, কিন্তু আমি দিইনি। পরে সে নিজেই নিজের শরীরে মরিচ দেয়। সরাইল উপজেলা থেকে এক মাস আগে তাকে নিয়ে আসা হয় বলে জানান ফারহানা।