নওগাঁর সাপাহারে একটি ছাত্রবাস থেকে সুমি খাতুন(১৮) নামে এক গৃহবধূর হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলা সদরের মাতৃছায়া ছাত্রাবাস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি পাঠানো হয়।

মারা যাওয়া সুমি খাতুন পত্নীতলা উপজেলার দিবর গ্রামের আলী হোসেনের মেয়ে এবং সাপাহার উপজেলার উত্তরপাতাড়ী গ্রামের তফিজুল ইসলামের ছেলে সেলিম রেজার স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে সুমির স্বামী পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, নয় মাস আগে সেলিম রেজার সাথে সুমির বিয়ে হয়। সেলিম বেসরকারি একটি কোম্পানিতে কর্মরত থাকায় সাপাহার উপজেলা সদরের সৌদি মসজিদ সংলগ্ন মাতৃছায়া ছাত্রাবাসের একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তার স্ত্রী  সুমি খাতুন গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। মঙ্গলবার সুমির বাবা আলী হোসেন মেয়েকে জামাইযের গ্রামের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সুমিকে তিনি উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্টে জামাই সেলিমের কাছে রেখে নিজ বাড়িতে চলে যান। একইদিন সন্ধ্যায় দিকে সেলিম তার শ্বশুরকে ফোন করে সুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানায়। খবর পেয়ে সুমির বাবা ও পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সেলিম সেখান থেকে পালিয়ে যান।

মারা যাওয়া সুমির বাবা আলী হোসেন তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

এব্যাপারে সাপাহার থানার ওসি তারেকুর রহমান সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাম হাত সুতলি দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, সুমির শরীরে হত্যার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। ওই গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে পেলেই এই মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।


বিষয় : নওগাঁ ছাত্রবাস গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য করুন