ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি’

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি’

নিহত আয়েশার দুই সন্তান কোলে স্বজনদের বিক্ষোভ। ছবি: সমকাল

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:১১ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১৯:১১

‘আমার মেয়ে ফাঁস নেয়নি। মাদকাসক্ত জামাই (জামাতা) সজল ও তাঁর পরিবারের লোকজন টাকার জন্য কিল-ঘুসি ও লাথি মেরে হত্যা করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘরের সিলিং ফ্যানে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার করেছে।’ বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন শহিদ সরদার। বুধবার তাঁর মেয়ে আয়েশা খাতুনের (২৩) লাশ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াকান্দি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গ্রামের সজল হোসেনের সঙ্গে বছর চারেক আগে বিয়ে হয় তাঁর। এ দম্পতির দুই ছেলে। বড়টির বয়স তিন বছর, নাম মুন্না। ছোট ছেলে তালহার বয়স মাত্র দুই মাস। 

উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খানাপাড়ায় আয়েশার বাবার বাড়ির স্বজন ও এলাকাবাসী শনিবার মানববন্ধন করে। সেখানে মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন শহিদ সরদার। 

তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বলেন, ‘সজল (জামাতা) বারবার টাকা চাইত। ধারদেনা করে কয়েক লাখ টাকা, সোনাদানা ও বিভিন্ন মালপত্রও দিছি। তবুও আমার মেয়েকে হত্যা করেছে ওরা।’ এখন ছোট শিশু দুটির ভবিষ্যৎ কী হবে– এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

স্বজনরা জানান, বিয়ের পর থেকে সজল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন আয়েশাকে। এ জন্য ঘরের আসবাব, স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লাখ টাকার মালপত্রও দেওয়া হয়েছে। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ কারণে আয়েশা কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে স্বামী সজলকে দেন। তবে মাদকাসক্ত সজল নিয়মিত কিস্তি শোধ করতেন না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার আয়েশাকে মারধর করে হত্যা করেছে সজল ও তাঁর স্বজনরা। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘরের সিলিং ফ্যানে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়। 

তবে এসব অস্বীকার করেন স্বামী সজল হোসেন। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন, ‘আয়েশাকে দিয়ে আমার শ্বশুর কয়েকটা এনজিও থেকে দুই-তিন লাখ টাকা লোন তুলেছেন। কিন্তু শ্বশুর সময়মতো কিস্তি দেন না। এ জন্য এনজিওর লোকজন চাপ দিচ্ছিল। তা সইতে না পেরে আয়েশা আত্মহত্যা করেছে।’

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করেছিলেন কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিবাকর হালদার। তিনি এর তদন্তকারী কর্মকর্তা। এসআই দিবাকর হালদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা ও মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানাতে পারবেন। 

আরও পড়ুন

×