ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শোকজ

ফরিদপুর-২ আসন

আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শোকজ

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জামাল হোসেন মিয়া

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২০:২৪ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২০:২৭

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জামাল হোসেন মিয়াকে শোকজ (কারণ দর্শানো) করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। 

শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) ওই আসনের জন্য গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) কাঞ্চন কুমার কুন্ডু এ নোটিশ ইস্যু করেন। নোটিশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থির আচরণ বিধিমালা ২০০৮-এর অধীন আইনের বিধান লঙ্ঘন করায় এ কারণ দর্শানো হয়।

জামাল হোসেন মিয়া নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। গত ৩০ নভেম্বর তিনি যানবাহনের বিশাল শোভাযাত্রাসহ সালথা উপজেলা পরিষদে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নোটিশে বলা হয়, আপনি মো. জামাল হোসেন মিয়া, নির্বাচনী এলাকা-২১২-এর (ফরিদপুর-২ আসন) একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। আপনি গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সালথা উপজেলা কার্যালয়ের রিটানিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে যান। ওই সময় উপরোল্লিখিত আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে কয়েক শতাধিক লোকের একটি মিছিল নিয়ে সেখানে যান। আপনার নিজ বাসভবন নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে মিছিল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। 

এ সময় নেতাকর্মীরা ও সমর্থকরা আপনার নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে থাকেন। উপজেলা কার্যালয়ের রিটানিং অফিসের প্রধান ফটকে এসেও আপনার সমর্থকরা হাততালি ও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার পর আপনি আপনার সমর্থনে ভোট প্রার্থনা করেন। আপনার কর্মী সমর্থকদের এমন ভিড় সাধারণ জনমনে ভীতির সঞ্চার হয়, যা বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এর মাধ্যমে আপনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০০৮-এর ৮(খ) ও ১২ ধারার বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এসব কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রেরণ করা হইবে না- আগামী ৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হইল।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকালে আদালতের জারি করা শোকজ নোটিশটি নিয়ে নগরকান্দার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি রওনা হয়ে গেছেন।

জানতে চাইলে জামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন এত লোক হবে, তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি মানুষের আবেগ রোধ করতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা এখনও পাইনি। নোটিশ পেলে আদালতে গিয়ে আমার বক্তব্য পেশ করবো।’

প্রসঙ্গত, এর আগে একই অভিযোগে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকে শোকজ করেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। আদালতের নির্দেশ মেনে গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে নিক্সন চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন।

আরও পড়ুন

×