অভ্যন্তরীণ নদনদীতে জাটকা নিধনে (৯ ইঞ্চির কম আকৃতির ইলিশ) আট মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে বুধবার মধ্যরাতে। ফলে অক্টোবর পর্যন্ত নদনদীতে ইলিশ নিধনে আর কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই উপকূলীয় এলাকায় জেলেরা বাধাহীনভাবে ইলিশ ধরা শুরু করেছেন। তবে যে পরিমাণ ইলিশ জালে ধরা পড়ছে, তাতে খুশি নন তারা। অন্যদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের দাবি, সাগর মোহনায় কয়েকদিন ধরে বেশি ইলিশ পাচ্ছেন জেলেরা। ফলে মোকামে ইলিশের আমদানি কিছুটা বেড়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর জাটকা নিধনে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৯ হাজার অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং সাত শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে সাড়ে ৪০০ টন জাটকা এবং ১৬ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও সাত হাজার পিস নিষিদ্ধ অন্যান্য জাল। জাটকা নিধনে নিরুৎসাহিত করার জন্য তালিকাভুক্ত প্রত্যেক জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট চার মাস চাল দেওয়া হয়।

বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, জাটকা সংরক্ষণ করে বড় ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ করে দিতে আট মাস জাটকা ধরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ১ জুলাই থেকে অভ্যন্তরীণ নদীতে ইলিশ নিধনে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে ২০ মে শুরু হওয়া গভীর সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ নিধনে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। এ মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, জেলেরা এখন পুরো উদ্যমে নদীতে ইলিশ ধরা শুরু করেছেন। এক সপ্তাহ ধরে সাগর মোহনায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে মোকামে আগের চেয়ে আমদানিও বেশি।

মৎস্য কর্মকর্তার এ বক্তব্যে ভিন্নমত প্রকাশ করেন বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামের ইলিশ ব্যবসায়ী মো. ইয়ারউদ্দিন। তিনি বলেন, এই সময় মোকামে যতটা ইলিশ আমদানির আশা করেছিলেন, ততটা নেই। শুক্রবার ৬০ থেকে ৭০ মণ ইলিশ উঠেছে মোকামে। আগের কয়েকদিন দেড়শ মণ করে ইলিশ এসেছে পোর্ট রোড মোকামে। এ মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, মোহনায় ধরা পড়া ইলিশ সরাসরি রাজধানীতে পাঠানো হচ্ছে। যে কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ইলিশের দামও কমছে না।

নগরীর পোর্ট রোড মোকামে শুক্রবার ইলিশের পাইকারি দাম ছিল এলসি (৬০০-৯০০ গ্রাম) আকৃতির প্রতি কেজি এক হাজার ১৫০, এক কেজি সাইজ এক হাজার ৪৫০ এবং ৫০০ গ্রামের নিচে কেজি ৮০০ টাকা। খুচরা বাজারে ওই মাছ প্রকারভেদে আরও ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহনের টুমচরের জেলে হাসান আলী ও রজব মিয়া বলেন, কালাবদর নদীতে দিনরাত কাটে তাদের। আগের মতো মাছ নেই। তারা আক্ষেপ করে বলেন, মাছ ধরার এত বিধিনিষেধ যে নদীতে নামতেই পারছেন না। সদর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদে মাছ ধরেন হোসেন আলী। তিনি জানান, দু'দিন ধরে নদে নামতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এখন মাছ পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেছেন, জাটকা রক্ষায় তাদের অভিযান ছিল কঠোর। বিধিনিষেধ শেষ হওয়ায় জেলেরা নদীতে নেমে পড়েছেন। এখন ভরা মৌসুম হলেও ইলিশের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে জেলেদের।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, ইলিশ নদীতে আশা শুরু করেছে। খুব শিগগিরই জেলেরা বেশি পরিমাণ ইলিশ পাবেন।