বরিশালের উজিরপুরে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীকে রিমান্ডে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে উজিরপুর থানায় মামলাটি দায়ের হলেও সোমবার রাতে তা প্রকাশ পায়। পুলিশ ওই নারীকে বাদী করে মামলাটি রেকর্ড করেছে। এর আগে এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

উজিরপুর থানার নতুন  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় বলেন, মামলায় প্রত্যাহার হওয়া পরির্দশক (তদন্ত) মো. মাইনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান ও উজিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। 

মামলাটির  তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন- জেলা পুলিশের  বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, ওই নারী আদালতে যেভাবে অভিযোগ  করেছেন আমরা সেভাবেই অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। মামলায় ওই নারীকেই বাদী করা হয়েছে। ঘটনার  তদন্ত চলছে।

এর আগে সোমবার সকালে অভিযুক্ত উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাইনুল ইসলামকে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়। সোমবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বরিশাল রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এস এম আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রশাসনিক কারণে ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২ জুলাই উজিরপুর আমলি আদালতে ওই নারী আসামি অভিযোগ করেন, ৩০ জুন রিমান্ডে নেওয়ার পরের দিন সকালে তাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষে পাঠানো হয়। সেখানে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। এরপর এক নারী পুলিশ সদস্যকে ডেকে নিয়ে তাকে আবার লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই তাকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে পেটান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় দেখতে পান।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভাই বরুন চক্রবর্তী ওইদিনই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামি করা হয় এই নারীকে। যার সঙ্গে তার ভাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন বরুন। পরে মামলার আসামি হিসেবে এই নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এরপর থানা পুলিশের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলি আদালত নারী আসামির ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই ওই নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখে এর কারণ জানতে চান আদালত। ওই নারী আদালতের কাছে তাকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। 

আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান। এরপর তার যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং তাকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে। প‌রিচালক যে তদন্ত প্রতি‌বেদন জমা দি‌য়ে‌ছেন তাতে আঘা‌তের চিহ্নর কথা উল্লেখ র‌য়ে‌ছে‌ বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।