বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ জন মারা গেছেন।

জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন মঙ্গলবার সকালে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি এ সময় বলেন,  ‘করোনা পজিটিভ হয়ে, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মধ্যে বিস্তর তফাৎ রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত। কিন্তু অন্য ১১জনের নমুনা সংগ্রহ করলেও তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সে কারণে তাদের সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই। এমনও হতে পারে পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে কিংবা তারা সাধারণ ফ্লুতেও আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।’

ব্রিফিংয়ে ডা. তুহিন আরও জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮১০ নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে নতুন করে ২৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের হার ২৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত ৮ জনের মধ্যে বগুড়ার সরকারি ও বেসরকারি ৩টি হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে।

অন্যদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮জন, শহীদ জিয়াউর রহমান (শজিমেক) হাসপাতালে ২ জন এবং বাকি ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতালে।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখপাত্র ডা. তুহিন জানান, ৫ জুলাই পরীক্ষা করা ৮১০ নমুনার মধ্যে ২১৭টি নমুনা পাঠানো হয়েছিল ঢাকায়। সেখান থেকে পজিটিভ এসেছে ৯৩ জনের। অন্যদিকে ৫৯৩টি নমুনার মধ্যে বগুড়া শজিমেক পিসিআর ল্যাবে পাঠানো ২৮২টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে।

একই কলেজে জিন এক্সপার্ট মেশিনে ৪ নমুনায় ৩ জন, অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ২৫৯ জনের নমুনায় ৬০ জন এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৪৮ নমুনায় আরও ১৬জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
ডা. তুহিন জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৯৩১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।  মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩৭-এ। এছাড়াও চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৪১৩ জন।