কুড়িগ্রামের উলিপুরে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি কার্ডের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার দুপুরে উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের পরিষদের সামনে চাল কম দেওয়ার প্রতিবাদে সুবিধাভোগীরা বিক্ষোভ করেন।

গত মে ও জুন মাসের ৬০ কেজি চালের মধ্যে ওজনে ১০ কেজি করে চাল কম দেয়ার অভিযোগ করেন সুবিধাভোগীরা।

ভিজিডি কার্ডধারী জাহানারা, সাদেকা, ইসতোমা, মমতাজ, জোহরা, চায়না, সুফিয়া পারভীন, ছক্কু মিয়া, মরিয়ম বেগম, তরিকুল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, ওই ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ২১০ জন দুস্থ নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। 

কিন্তু তা না করে অসৎ উদ্দেশে শুক্রবার বন্ধের দিন মেম্বারদের বাদ দিয়ে চৌকিদারদের দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসারের যোগসাজসে মে ও জুন মাসের ৬০ কেজি চালের পরিবর্তে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ৫০ কেজি করে চাল দেওয়া শুরু করেন।  

কার্ডধারীরা চাল কম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তাদের তাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। 

এমন খবর পেয়ে ধামশ্রেনী ইউপি কার্যালয়ে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে বিতরন বন্ধ করে দ্রুত পরিষদে তালা দিয়ে সটকে পড়েন গ্রাম পুলিশরা। এ ঘটনায় প্রায় ঘণ্টাব্যপী বিক্ষোভ করেন সুবিধাভোগীরা। 

কার্ডধারী আফরোজা বেগম সমকালকে বলেন, ‘আমার কার্ড হয়েছে কিন্ত আমি এক মাসের চালও পায়নি। এবার চাল নিতে আসছি। কিন্তু চৌকিদারেরা কার্ডে সই (স্বাক্ষর) নিয়ে রেখে দেন। এখন আপনারা আসাতে তারা (চৌকিদার) পালিয়ে গেল। এবারও চাল পাব কিনা ঠিক নাই।এ ব্যাপারে মেম্বার নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন মেম্বার জানান, বিতরণের বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। গোলমালের খবর পেয়ে এসে প্রতিবাদী কার্ডধারী মহিলাদের কাছ থেকে ঘটনা জানতে পারি।’ 

পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (বিআরডিবি‘র) উপ প্রকল্প পরিচালক ও ট্যাগ অফিসার মো. রিয়াজুল হক বলেন, ‘শুক্রবার চাল বিতরণ করা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। গত বৃহস্পতিবার (৮জুলাই) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধির মাধ্যমে জানতে পারি ভিজিডির চাল বিতরণ করা হবে। তবে কবে চাল বিতরণ করবে সেটা আমার জানায়নি । আমি ট্যাগ কর্মকর্তা হলেও বিতরণের সময় তারা আমাকে কিছু জানায় না। এ বিষয়ে আমি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার অভিযোগও করেছি।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাখিবুল হাসান সরদারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানা আক্তার বলেন, ‘ভিজিডি চাল বিতরণ করতে হলে আমাদের চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। বিতরণকালে অবশ্যই ট্যাগ অফিসারকে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্ত তারা কিছুই মানেননি। শুক্রবার চাল বিতরণ ও ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি বলেন, ‘ভিজিডির চাল ওজনে কম দেয়ার খবর পেয়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছি। চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।