খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই করোনায় আক্রান্ত স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সৈয়দ আজাদ আলী (৭৮) করোনার উপসর্গ নিয়ে নগরীর মিয়াপাড়া প্রধান সড়কের নিজ বাসায় মারা যান। অপরদিকে তার স্ত্রী শামীম আরা বেগম (৬৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মারা যান।

নিহত দম্পত্তির ছেলে জুলফিকার আলী শুক্রবার সমকালকে জানান, বাবা-মা দুইজনের শরীরেই করোনার উপসর্গ ছিলো। পরে শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় মাকে গত ৬ জুলাই খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিলো তার। তবে বাবা হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। এর মধ্যে মার করোনা শনাক্ত হয়।

সৈয়দ আজাদ আলীর শ্যালক খান জাহান আলী বলেন, জুলফিকারের বাবার মৃত্যুর খবরটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমার বোনের কাছে গোপন রাখা হয়। ৮ জুলাই বাদ যোহর মিয়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আজাদ আলীর জানাযা শেষে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পর হাসপাতাল থেকে ফোন আসে আমার বোনও ইন্তেকাল করেছে। বাদ মাগরিব একই মসজিদে তার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে তাকেও টুটপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি বলেন, আমার বোন-ভগ্নিপরিতর দুই ছেলে-মেয়ে। এদের মধ্যে আমার ভাগ্নে জুলফিকারের ছোট দুই শিশু সন্তান রয়েছে। তাদের একজনের শরীরেও করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পুরো পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছে।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, করোনায় ও উপসর্গে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু বিষয়টি শুনেছি।