করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিশোরগঞ্জে একদিনে সর্বোচ্চ ৬ জন রোগী মারা গেছেন। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এক জন রোগী। তাদের নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনায় আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১০ জনে।

কিশোরগঞ্জ জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার প্রকাশিত রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এই জেলার বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে ৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ জন শনাক্ত হয়েছেন।

এছাড়া করিমগঞ্জ, তাড়াইল, পাকুন্দিয়া, মিঠামইন ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৩৪ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

শনিবার সকাল পর্যন্ত ১১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৭৮৩ জনে।

এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৪৬ জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭৪৬ জন, ২৪ জনের বাড়ি হোসেনপুর উপজেলায়, ৪১ জনের বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলায় ৪১ জন, ৪৩ জনের বাড়ি তাড়াইল উপজেলায়, ৬৯ জনের বাড়ি পাকুন্দিয়া উপজেলায়, ৯০ জনের বাড়ি কটিয়াদী উপজেলায়, ১১ জনের বাড়ি কুলিয়ারচর উপজেলায়, ১৩৪ জনের বাড়ি ভৈরব উপজেলায়, ১০ জনের বাড়ি নিকলী উপজেলায়, ৩২ জনের বাড়ি বাজিতপুর উপজেলায়, ২৩ জনের বাড়ি ইটনা উপজেলায় এবং ৪ জনের বাড়ি মিঠামইন উপজেলায়। জেলায় একমাত্র অষ্টগ্রাম উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।

প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৫ জন। এ নিয়ে কিশোরগঞ্জে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে হল ৫৪৪৬ জন।

সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে কোন নমুনা পরীক্ষা হয়নি। ল্যাবটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় শুক্রবার (৯ জুলাই) নমুনা পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তবে পরীক্ষা হয়েছে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়, এক জনের বাড়ি হোসেনপুর উপজেলায় ও তিন জনের বাড়ি ভৈরব উপজেলায়। মৃতদের মধ্যে ৪ জন ও ২ জন পুরুষ।

মৃতদের বয়সভিত্তিক ও এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দুই পুরুষ রোগীর বয়স ছিল ৭০ ও ৬৩ বছর। হোসেনপুর উপজেলার নারীর ৭০ বছর, ভৈরবের তিন নারীর বয়স ছিল যথাক্রমে ৮৫, ৭৭ ও ৫৫ বছর।

মৃতদের মধ্যে ভৈরব উপজেলার ২ জন নারী ছাড়া বাকি ৪ জনই কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান সমকালকে জানান, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৩ জন।

এদের মধ্যে ১০ জন রোগী আইসিইউতে রয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন। গত ১৯ জুন থেকে সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৭ জন সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন।