চট্টগ্রামের একটি জুয়েলারি দোকানের 'বিশ্বস্ত' কর্মচারী সুদীপ্ত সাহা টিংকু। তার হাতেই থাকত দোকান মালিকের সব ব্যাংকের এটিএম কার্ড। মালিকের নির্দেশে এসব এটিএম কার্ড ব্যবহার করে প্রায়ই টাকা তুলে আনেন তিনি। 

শুক্রবারও এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান। সময়মতো না ফেরায় ফোন করেন দোকান মালিক। কিন্তু সুদীপ্তর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। বিকেল ৪টার দিকে খবর পান সুদীপ্তকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করে বান্দরবানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন খবর পেয়ে থানায় ছুটে যান দোকান মালিক। তদন্তে নামে পুলিশ। বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। কর্মচারী সুদীপ্ত নিজেই টাকা মেরে দিয়ে মালিকের কাছে অপহরণের গল্প ফেঁদেছেন। 

শনিবার তার বোনের বাসায় অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সুদীপ্ত সাহা টিংকু চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের অসীম সাহার ছেলে। নগরের আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টারের 'দি সন্দ্বীপ জুয়েলার্সের' কর্মচারী তিনি। থাকেন নগরের বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকায়।

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, শুক্রবার বিকেলে জুয়েলারি দোকানের মালিক প্রদীপ বণিক থানায় এসে অভিযোগ করেন, দোকানের কর্মচারী সুদীপ্ত তার চারটি এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বুথ থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করে বেরিয়ে আসার পর একটি কালো মাইক্রোবাসে চার-পাঁচজন লোক এসে তাকে সেখান থেকে তুলে নেয়। তাকে বান্দরবানে নিয়ে চোখ ও হাত বেঁধে পাহাড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। মাইক্রোবাসে থাকা লোকজন নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে সুদীপ্তকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকাগুলো কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ প্রদীপের।

ওসি জানান, অভিযোগ পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বান্দরবানে সুদীপ্তের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। চট্টগ্রামে বুথের সামনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি টাকা তুলে বের হয়েছেন। এ সময় একটি কালো মাইক্রোবাস সেখানে এসে থামে। তবে সুদীপ্তকে মাইক্রোবাসে তোলা হয়নি। এ দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এর মধ্যে বান্দরবান থেকে তাকে ধরে রাতে ডবলমুরিং থানায় আনা হয়। 

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, টাকাগুলো আত্মসাতের জন্য নিজেই অপহরণের এই নাটক সাজিয়েছেন। তিনি নিজেই বান্দরবান চলে গিয়েছিলেন। পরে পাথরঘাটায় তার বোনের বাসা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়। সুদীপ্তর বিরুদ্ধে দোকান মালিক বাদী হয়ে মামলা করেছেন।