করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে রাজধানীতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।  চলতি মাসে রাজধানীতে ৪২৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) সহকারী পরিচালক ও হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের প্রতিবেদনে এই তথ্য এসেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন  ১২৩ জন।

বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২০৯ জন। তাদের মধ্যে ২০৮ জনই রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে সর্বমোট ৭৯৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তার মধ্যে জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন, মে’তে ৪৩ জন, জুনে ২৭১ জন এবং ১২ জুলাই পর্যন্ত ৪২৫ জন রোগী ভর্তি হন।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক নয়: তাজুল ইসলাম

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও তা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন  ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনার দশম আন্তঃমন্ত্রণালয় অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

সভায় রাজধানীবাসীকে ডেঙ্গু নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এডিস মশা বিস্তার বা প্রজননের সকলক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এডিস, অ্যানোফিলিস বা কিউলিক্স মশা যে মশাই হোক না কেন এগুলো নিধনের জন্য কি করতে হবে তা সবারই জানা। 

করোনার মধ্যে যেন ডেঙ্গু মাথা ব্যথার কারণ না হয় সেটি লক্ষ্য রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন তিনি।

রাজধানীতে এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধ করতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। 

সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জেল, জরিমানার বিধান জারির পরও রাজধানীবাসী সতর্ক হচ্ছেন না। এতে চটেছেন মন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘জেল-জরিমানা করার পরও ঐসব বাসা-বাড়ি অথবা ভবনে পুনরায় মশার লার্ভা পাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে । ইচ্ছাকৃতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস না করা গুরুতর অপরাধ। আর এই অপরাধের সাথে কেউ সম্পৃক্ত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।’ 

প্রত্যেক ওয়ার্ডকে দশটি সাব জোন ভাগ করে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে গঠিত কমিটিকে স্থায়ী রুপ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ত্রাণ বিতরণ, মশা নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকসহ যেকোন সমস্যা দ্রুত সমাধানে এই কমিটিকে কাজে লাগানো সম্ভব।

মশা নিধনে অর্পিত নাগরিক দায়িত্ব  যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা বা ঘাস কাটা বছর ভিত্তিক অথবা কোয়ার্টালি না করে নিয়মিত করতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রেলওয়ে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং সিভিল এভিয়েশনসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধিক্ষেত্রে মশকের বিস্তার রোধে নিজ নিজ উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।’

সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়,বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ডিএনসিসির ডেঙ্গু অভিযানে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় 

ঢাকা উত্তর সিটি  করপোরেশন-ডিএনসিসি এলাকায় এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তার রোধকল্পে মোবাইল কোর্টে ১৪টি মামলায় সর্বমোট ২ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ডিএনসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,  সোমবার ডিএনসিসির ১ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৪টি মামলায় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা, ২ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ. এস. এম. সফিউল আজম পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৫টি মামলায় ২ লাখ  ৫ হাজার টাকা, ৩ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল বাকী পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ২টি মামলায় ৩০ হাজার টাকা এবং ৬ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৩টি মামলায় ২৫ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। 

এভাবে মোট ১৪টি মামলায় আদায়কৃত জরিমানার সর্বমোট পরিমাণ ২ লাখ ৯১ হাজার ৭০০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত ৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ওয়াসা ও গণপূর্ত মালিকানাধীন ৩ ভবনসহ ১৭ ভবনকে সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে এদিন।

এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) ৫ জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (আনিক) ও করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। 

অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো ১৯৯টি ভবন ও নির্মাণাধীন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং ১৭টি ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় সর্বমোট ১৭ মামলায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা ১০ নং ওয়ার্ডের মতিঝিল এজিবি কলোনি সংলগ্ন এলাকার ৫০টি ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্থ টেলিকম ভবনের বিপরীত পাশে ওয়াসা ও গণপূর্তের নির্মাণাধীন ৩টি ভবনে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। পরে ভবনগুলোর নির্মাণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৩ মামলায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।