ঘোষণা দেওয়া হলেও মঙ্গলবার ঈদযাত্রার ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। বুধবার সকাল আটটা থেকে 'রেল সেবা' অ্যাপ এবং ওয়েবে টিকিট বিক্রি করা হবে। বুধবার পাওয়া যাবে ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট। তবে ঈদের আর বেশি দিন বাকি না থাকায় বাসের আগাম টিকিট এ বছর বিক্রি হবে না।

ঈদে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ১৫ থেকে ২৩ জুলাই ভোর পর্যন্ত লকডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার থেকে দূরপাল্লার বাস-ট্রেন ও লঞ্চসহ সবধরনের গণপরিবহন চলবে।

মঙ্গলবার দুপুরে রেলপথ মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৫ জুলাই থেকে প্রতিদিন ৩৮টি আন্তঃনগর ট্রেন চলবে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে। মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেইজে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা থেকে অ্যাপে ওয়েবে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ঈদযাত্রার টিকিটের জন্য লাখো মানুষ টিকিটের জন্য অ্যাপে ওয়েবে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। 'হিটের' চাপে অ্যাপ ও ওয়েবে প্রবেশ করাই যাচ্ছিল না। রেলের ফেসবুক পেজে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিন শতাধিক টিকিট প্রত্যাশী জানান, তারা ওয়েবে অ্যাপে প্রবেশ করতে পারছেন না। কেউ কেউ ক্ষোভে অভিযোগ করেন, টিকিটে কারসাজি হচ্ছে।

কিন্তু সন্ধ্যা সাতটার দিকে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানান, তখন পর্যন্ত টিকিট ছাড়াই হয়নি। কারসাজির প্রশ্ন আসে কী করে! তিনি সমকালকে বলেন, ‘সব ট্রেন চলবে না। যেগুলো চলবে সেগুলোও আসনের অর্ধেক যাত্রী নিতে পারবে। এ জন্য প্রোগ্রাম ও সিস্টেম হালনাগাদের কাজ করতে হচ্ছে। এগুলো শেষ হলে রাত আটটার দিকে টিকিট বিক্রি শুরু করা সম্ভব।’

রেলওয়ের হয়ে টিকিট বিক্রি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। প্রতিষ্ঠানটির জেষ্ঠ্য নির্বাহী পরিচালক মেজর (অব.) জিয়াউল আহসান সারোয়ার রাত আটটার দিকে সমকালকে বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতো ট্রেন চলবে না। প্রায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি ট্রেন বন্ধ থাকবে। সেগুলোকে সিস্টেম থেকে সরানো, আসন বিন্যাস করাসহ অনেক কাজ করতে হয়েছে। রেলের অনুমতি পাওয়া মাত্র টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

রাত সাড়ে আটটার দিকে রেলের উপ-পরিচালক (টিসি) নাহিদ হাসান খান সমকালকে নিশ্চিত করেন, বুধবার সকাল আটটা থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। তার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টিকিট ছাড়ার দিন থেকে পাঁচ দিন পূর্বে আগাম টিকিট দেওয়া হবে। ঈদযাত্রায় বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না। ‘পাস কোটা’ ছাড়া কোনো কোটা থাকবে না। বাকি সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। কাউন্টারে বিক্রি হবে না। স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হবে না। তবে ১৯টি মেইল লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের টিকিট আগের মতোই স্টেশন থেকে যাত্রার দিনই বিক্রি হবে।

কমলাপুর স্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার ১৫ থেকে ১৮ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার বিক্রি হবে ১৯ জুলাইয়ের টিকিট। ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ২০ জুলাইয়ের এবং ঈদের পরদিন ২২ জুলাইয়ের টিকিট দেওয়া হবে ট্রেন চলাচল সাপেক্ষে। ২১ জুলাই ট্রেন চলবে।