নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রোমেলের বাড়িতে হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভাঙচুর করেছে। হামলায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন আটজন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চৌধুরী বাড়িতে হামলার এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রুমা আক্তার (৩৮), মমতাজ বেগম (৪০), রাসেল চৌধুরী (৩৮), মজিল চৌধুরী (২৫) ও জুয়েল (৩৫)।

আজম পাশা চৌধুরী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী। তিনি দাবি করেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্চা রাসেল, সজল ও মারুফের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।

আজম পাশা চৌধুরী বলেন, কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিবদমান দু'পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে গতকাল বিকেলে কাদের মির্জার নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দুই শতাধিক সদস্য অতর্কিত আমার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে। সাতটি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নোয়াখালী জেলা পরিষদের সদস্য আকরাম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ বলেন, দুই শতাধিক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোটা ও ককটেল নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় গুলিতে ও ককটেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ আসার পরও হামলাকারীরা গুলি চালায়, ককটেল নিক্ষেপ করে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বলেন, বাদলের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, হামলার ব্যাপারে কাদের মির্জার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল নম্বরে কল দিলে ব্যক্তিগত সহকারী স্বপন মাহমুদ বলেন, মেয়র এখন কথা বলতে পারবেন না। কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বুধবার রাতে বাদলের অনুসারীরা বসুরহাট পৌরসভা ভবন লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। 

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মেয়রের অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিছিল বের হলে আজম পাশা চৌধুরী রোমেলের নেতৃত্বে তাতে হামলা চালানো হয়। এতে কাদের মির্জার অনুসারী ৬ নং ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ সভাপতি রাজু (৩০) আহত হন। রোমেলের বাড়িতে কেউ হামলা করেনি। এটা তাদের সাজানো নাটক।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফ উদ্দিন আনোয়ার বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুলিবিদ্ধ এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে।