সাত দিনের সময়সীমা বেধে দিয়ে চট্টগ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা বলেছেন, সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে চট্টগ্রামবাসী ‘দুর্বার গণপ্রতিরোধ’ গড়ে তুলবে।

পূর্ব রেলের সদর দপ্তর (সিআরবি) এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ ও ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে চট্টগ্রামে চলছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। 

গত বছরের মার্চে এ প্রকল্পের জন্য বেসরকারি ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়। সম্প্রতি এই প্রকল্পের জন্য রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনির কোয়ার্টার উচ্ছেদ শুরু হলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে সিআরবি সাতরাস্তার মোড়ে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইকো ফ্রেন্ডসের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে যোগ দেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদ, ওব্যাট থিংক ট্যাঙ্ক চট্টগ্রাম, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ফাউন্ডেশন, স্মাইল বাংলাদেশ সংগঠনের সদস্যরা।

ইকো ফ্রেন্ডস’র সভাপতি উত্তম কুমার আচার্য্য’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন পরিবেশবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, গণ অধিকার ফোরামের মহাসচিব এমএ হাসেম রাজু, ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিটুল দাশগুপ্ত, ইপসা’র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সমাজকর্মী নেছার আহমেদ খান, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শহীদ ফারুকী, বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক দিলিপ ভারতী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা)’র বিভাগীয় সমন্বয়ক জিয়াউর রহমান কল্লোলসহ আরও অনেকে।

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন বনায়ন নাট্য সম্প্রদায়, নরেন একাডেমি, উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ, সম্মিলিত সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠন, চন্দনাইশ ছাত্র সমিতি, রোটারেক্ট ক্লাব অফ চিটাগং, স্বপ্নের বাংলা, কালার্স একাডেমি, প্রতীক ৭১, চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক পরিষদ, চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ, বঞ্চিত নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিআরবি প্রাঙ্গন একটি ঐতিহাসিক সম্পদ। এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। এ সিআরবি প্রাঙ্গণে রয়েছে শত শত মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের নিদর্শন, স্মৃতিফলক ও কবর। সিডিএ মাস্টারপ্ল্যানে এটিকে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে এটি রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। 

তারা বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক, অন্যথায় চট্টগ্রামবাসী এর বিরুদ্ধে দুর্বার গণপ্রতিরোধ করে তুলবে। 

এসময় বক্তারা বলেন, উন্মুক্ত উদ্যানসহ সব ঐতিহাসিক স্থাপনা বা এলাকার উন্নয়নের জন্য নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, শিল্পী, ইতিহাসবিদ, উদ্যানবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষক, পরিবেশবিদ ও কবি-সাহিত্যিকসহ সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করতে হবে যারা সিআরবির বিষয়ে মতামত দেবেন।