নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে বহুল আলোচিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ বাংলা পাঠ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের নির্বাচন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ এই আইনের সংশোধন ও বাংলা ভাষায় রূপান্তর নিয়ে অতীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে শিরোনামসহ বিদ্যমান আইনটিতে কোন প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই রোববার সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার স্বাক্ষরিত গেজেটে আরপিও’র ৯৪ (ক) ধারা অনুসরণ করা হয়েছে। যদিও সরকারি প্রজ্ঞাপনে গত ১ জুলাই বাংলা পাঠটি প্রকাশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান আরপিও অনুযায়ী এটাকে হুবহু বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। আরপিও প্রণয়নের সময়ই বাংলা পাঠ প্রকাশের বিধান থাকলেও বাংলা পাঠ প্রকাশিত হতে সময় লাগলো ৫০ বছর।

ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, ইংরেজি ভাষায় প্রণীত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯৪ ক ধারায় বাংলা পাঠ প্রকাশের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে- আইনটি জারির পর সরকার সরকারি গেজেট দ্বারা একটি নির্ভরযোগ্য বাংলা পাঠ প্রকাশ করতে পারবে। এতে আরও বলা হয়, বাংলা ও ইংরেজি পাঠে সাংঘর্ষিক কিছু দেখা দিলে ইংরেজি পাঠ প্রাধান্য পাবে।

সাধারণত কোনো আইন বাংলা ভাষায় প্রণীত হলে ইংরেজিতে অনুবাদের বিধান থাকলেও সেখানে বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সংবিধানের ক্ষেত্রেও বাংলা পাঠ প্রাধান্যের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আরপিও’র বাংলা পাঠ প্রকাশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, তিনি নিজেই অক্ষরে অক্ষরে পরীক্ষা করে বাংলায় করে দিয়েছেন।

এদিকে বাংলায় পাঠ প্রকাশের আগেই নির্বাচন কমিশন আরপিও বাংলায় অনুবাদসহ কয়েক দফায় বেশ কয়েকটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। শুরুতে আইনের শিরোনামসহ বেশ কিছু ধারার পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ইসি ওই সময় আইনের শিরোনাম গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের পরিবর্তে গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে প্রণীত আরপিওর শিরোনাম পরিবর্তনে আওয়ামী লীগ থেকে আপত্তি করা হয়। পরে শিরোনাম ঠিক রেখে আইনে সামান্য কিছু ধারার পরিবর্তনের সুপারিশ করে কমিশন তা সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে আইনটি সংশোধনীর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলেও জানান ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইসি থেকে আইনটির সংশোধনী কমিশন সভায় অনুমোদনের পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন।