দুই পা বাঁকা, হাতের কয়েকটি আঙুলও একটির সঙ্গে অপরটি লাগানো। এমন কিছু শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়ায় নিজের নবজাতক সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন মা-বাবা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটেছে। 

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মঙ্গলবার পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি ফেলে যাওয়া শিশুটির মা বাবা কিংবা কোনো স্বজনের। এদিকে এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নবজাতকটির নাম ঝর্ণা। শিশুটির বয়স ১৫ দিন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। 

জানা গেছে, রোববার সকালে চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের ৫২ নম্বর শয্যায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। তবে ওইদিন দুপুরের পর থেকে শিশুটির কোনো অভিভাবককে খুঁজে পায় না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ভর্তির রেজিস্ট্রেশন খাতায় দেখা যায়- ভর্তির সময় নবজাতকের অভিভাবকের ঠিকানায় লেখা হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ির শিবির গ্রামে। বাবার নামের জায়গায় জসীম উদ্দীন উল্লেখ রয়েছে। সেখানে জসীম উদ্দীনের দেয়া ফোন নম্বরটিতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সেটি বন্ধ পান চিকিৎসকরা। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা ও রোগী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ সাহা সমকালকে বলেন, ‘শিশুটির দুই পা বাঁকা, হাতের কয়েকটি আঙুলও একটির সঙ্গে অপরটি লাগানো। এমন নানা শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেওয়ায় ১৪ দিন বয়সী নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাকে ফেলে চলে যায় মা-বাবা। গত দুইদিন ধরে শিশুটির বাবার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি আমরা। শিশুটির দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধসহ অন্যান্য সামগ্রীর সরবরাহ করেছি। শিশুটির মা বাবা কিংবা স্বজনদের কারও খোঁজখবর না পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছে। শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় সব কিছুই রোগী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। হাত ও পায়ে জন্মগত ত্রুটি থাকায় মা–বাবা তাকে ফেলে গেছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।