কোরবানির মাংস ভাগ করে গরিবদের দেওয়ার বিধান থাকলেও অনেক গরিব সেটা থেকে বঞ্চিত হয়। লোকলজ্জা বা অন্যকোনো কারণে অনেকেই মাংস নিতে ভিড় করেন না। আবার নানা কারণে অনেক সময় তাদের বাড়িতে মাংস পৌঁছে না। ‘সাধ আছে, সাধ্য নেই’; এমন কিছু সংখ্যক মানুষ মিলে গঠন করেছেন হতদরিদ্র সমিতি। তাদের লক্ষ্য ঈদুল আজহায় কোরবানি দেওয়া।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের মূল সতাল গ্রামের ১৪ জন গরিব মানুষ মিলে গঠন করেছেন হতদরিদ্র সমিতি। প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমা করেন তারা। সমিতির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা সংগ্রহ করেন। সভাপতি মাহতাবসহ সমিতির তিনজন সদস্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এছাড়া সদস্যদের সবাই দিনমজুর শ্রেণির।

মাহতাব উদ্দিন জানান, পাঁচ বছর ধরে তারা এ সমিতি পরিচালনা করে নিজেদের জমানো টাকায় কোরবানি দিয়ে আসছেন। প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমান তারা। জমানো টাকা আবার ছোটখাট ব্যবসায়ও খাটানো হয়। বছর শেষে জমানো টাকায় কোরবানির ঈদের সময় গরু কিনেন তারা।

এবার ৭৬ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু কিনেছেন তারা। গরু কিনে যে টাকা বাড়তি থাকে, কোরবানির মাংসের সঙ্গে সে টাকার অংশও সদস্যদের দিয়ে দেওয়া হয়। প্রতি কোরবানির ঈদের পরদিন থেকে তারা আবারও ১০ টাকা করে জমাতে শুরু করেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই আমাদের। মাংসের জন্য কারও বাড়িতে যাইতেও পারি না, লজ্জা লাগে। যারা কোরবানি দেন, তারাও আমাদের বাড়িতে মাংস দেন না। কিন্তু গরিবেরও তো সাধ আছে। একা না পারি, দশে মিলে তো পারব। তাই হতদরিদ্র সমিতিতে ১০ টাকা করে জমা করি কোরবানির জন্য।

সমিতির সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, অনেক ধনী মানুষ কোরবানির মাংস ফ্রিজে রেখে দেন। সব গরিবকে দেন না। এদিকে ঈদের সময় ছেলেমেয়েরা মাংসের আবদার করে, কিন্তু দিতে পারি না। তাই সবাই মিলে এ উদ্যোগ  নিয়েছি। এখন মাংসের অভাব হয়না।

বুধবার (২১ জুলাই) ঈদের দিন পর্যন্ত সবমিলে তাদের ৮৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এরমধ্যে কোরবানির গরু কিনেছেন ৭৬ হাজার টাকায়। বাড়তি টাকা ভাগাভাগি করে দেওয়া হবে সদস্যদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৌলাই এলাকায় ২০টির মতো এমন সমিতি রয়েছে। প্রতি কোরবানির ঈদে তারা নিজেদের জমানো টাকায় কোরবানি দেন। মাংসের জন্য কারও বাড়িতে ভিড় করেন না তারা।

বিষয় : কোরবানি কিশোরগঞ্জ

মন্তব্য করুন