চিরচেনা কোলাহল নেই, নেই কোনো আয়োজন। করোনাভাইরাসে সংক্রমণের কারণে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে বন্ধ রয়েছে ঈদের জামাত।

বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশাখাঁর ষোড়শ বংশধর হয়বতনগরের জমিদার দেওয়ান মান্নান দাঁদ খান তার মায়ের অসিয়াত মোতাবেক ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি ওয়াকফ করেন। 

সেই ওয়াকফ দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ১৭৫০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পর ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিশোরগঞ্জ মৌজার এ মাঠের মূল আয়তন বর্তমানে ৬.৬১ একর।

এরপর প্রতি বছর শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে মুসল্লিদের সংখ্যা বাড়ে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা এই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করতেন।

২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাস হানা দিলে সংক্রমণের আশঙ্কায় শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

বৃহত্তম জামাতের হিসাব অনুযায়ী, এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯৪তম ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানসহ জেলার সর্বত্র খোলা জায়গা এবং ময়দানে ঈদ জামাত নিষিদ্ধ করেছে। 

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম সমকালকে বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ফলে করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে জেলায় খোলা মাঠ ও ঈদগাহে ঈদের জামাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।সেই অনুযায়ী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন।’

২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন ঈদ জামাতের আগে মাঠের কাছে একটি চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও লাখ লাখ মুসল্লি ঈদজামাতে অংশ নিয়েছিলেন।

জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া ঈদগাহ ময়দানে আগত মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি শটগানের গুলি ছোঁড়া হয়।



বিষয় : শোলাকিয়া ঈদুল আযহা করোনাভাইরাস

মন্তব্য করুন