আসছে শীতে করোনাভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্টের প্রকোপ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্স সরকারের করোনাবিষয়ক একজন শীর্ষ উপদেষ্টা। 

ফ্রান্স সরকারের সায়েন্টিফিক কাউন্সিলের প্রধান জ্যঁ-ফসোয়াঁ দেলফেসি ফ্রান্সের বিএফএম টিভিকে বলেন, ‘আসছে শীতে করোনার নতুন এক ভেরিয়েন্টের আক্রমনের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

করোনাভাইরাস সংক্রমনের চতুর্থ ঢেউ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপের দেশটি। মাঝে সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও হঠাৎ ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বিস্তৃতি সংক্রমণের গ্রাফটি এখন উর্ধ্বমুখী। 

জ্যঁ-ফসোয়াঁ দেলফেসি বলেন, আমরা এখনই ধারণা করতে পারছি না, এই ভেরিয়েন্ট কতটা ভয়ঙ্কর হবে। 

ফ্রান্স সরকারের শীর্ষ এ পরামর্শক তার দেশের নাগরিকদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে বলেছেন,বাড়ির বাইরে এলে তারা যেন অবশ্যই মাস্ক পরিধান করেন।

তিনি বলেন, ‘২০২২ বা ২০২৩ সালে হয়ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।’

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সামাজিক সহাবস্থান। সেই সহাবস্থানের মানে হল, টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা কিভাবে টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকবে।

সংক্রমণের মধ্যে যারা জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসবেন তাদের জন্য ‘হেলথ পাস’ ইস্যু করার কথা ভাবছে সরকার, যাতে তাদের টিকাগ্রহণের তথ্য ও করোনা নেগেটিভ সনদের তথ্য উল্লেখ করা থাকবে।

সংক্রমণের জটিল পরিস্থিতিতে সিনেমা হল, জাদুঘর, সুইমিং পুল ও খেলার মাঠগুলো খুলে দেওয়ায় কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এমন সব লোককে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন যারা এখনও টিকা নেননি।

ফ্রান্সের পার্লমেন্টের নিম্নকক্ষের এক অধিবেশনে শুক্রবার একটি আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা কর্মীদের আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা টিকা দেবেন। সিনেটের জরুরি অধিবেশন এই আইনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হবে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলেও আশা করা যাচ্ছে।