চট্টগ্রামের পটিয়ায় জেলহাজতে কারাবরণ করে জামিনে বের হয়ে এসে ফের মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কামাল হোসেনের পরিবার। পটিয়া থানার দেয়াল ঘেঁষেই তাদের মাদকের আখড়া। এ পরিবারের কারণে এলাকার যুবসমাজ মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংসের পথে বলে মনে করছে এলাকার সচেতন মহল।

শনিবার পুলিশের অভিযানে কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ কেজি ১২০ গ্রাম গাঁজা, গাঁজা বিক্রির ১৪ হাজার টাকা ও গাঁজা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করার কাজে ব্যবহূত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলার পর তাকে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলে পাঠান। কামাল কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামের মৃত কালু মিয়ার ছেলে।

পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আইয়ুব বাবুল বলেন, কামালের পরিবারটি চিহ্নিত মাদক কারবারি পরিবার। এ পরিবারের কারণে পটিয়া পৌরসভার তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। পুলিশ বারবার গ্রেপ্তার করার পর তারা কীভাবে থানার পাশে আস্তানা গড়ে তুলে দিনদুপুরে মাদক ব্যবসা করে আসছে- এ প্রশ্ন এখন পুরো পটিয়া পৌরসভার জনগণের। পরিবারটির বিরুদ্ধে আইনগত লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কামালের ছত্রছায়ায় যারা আছে তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান পৌর মেয়র।
পটিয়া পৌর সদরের বাহুলী ৭নং ওয়ার্ড এলাকার পটিয়া থানার দেয়াল ঘেঁষেই কামালসহ তার পরিবারের ১০ সদস্য মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তারা পটিয়া পৌর সদরের বেরাইজ্জ্যা কলোনিতে একই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করছে। তাদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় আরও ৩টি মাদকের মামলা রয়েছে। তারা প্রত্যেকে মামলার আসামি। ইয়াবা, মদ, গাঁজা বিক্রি করে এ পরিবারের সদস্যরা এখন কোটিপতি।
এ ব্যাপারে পটিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল বলেন, থানার দেয়াল ঘেঁষেই বেরাইজ্জ্যা কলোনির অবস্থান। এ কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালানা করে আসছে একটি চক্র। কিছুদিন আগে এখানে হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এখান থেকে অস্ত্রও উদ্ধার করে। এ কলোনিতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদকসহ কারবারিদের গ্রেপ্তার করার পর তারা জামিনে এসে মাদক ব্যবসা করে যায়। অভিযুক্ত ওই পরিবারের মাদকের ছোবল থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে গেলে এলাকার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পটিয়া থানার একদল পুলিশ কামালের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় কামালের ছেলে নাজমুল হোসেন, মেয়ে সুমি ও রুমি আক্তার এবং ভাগ্নে আবদুল আজিজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে ওইদিন মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল বেরাইজ্জ্যা কলোনিতে ৮নং ওয়ার্ডের অধিবাসী লেঙ্গা সাইফুলের ভাড়া বাসায় অবস্থান করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সেখানে কামালের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মেয়ে রুমি আক্তার ও সুমি, ছেলে নাজমুল, বোন মিনু, ভাগ্নে জীবন সরকার, আবদুল আজিজ, ভাগ্নি নাহিদা আক্তার, ভগ্নিপতি সাগর সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা ওই বাসায় মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। এর মধ্যে গত ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ধরা পড়ে কামাল, ফাতেমা, নাজমুল ও রুমি। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা হয়। পরিবারের আরও ৩ জন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে আরেকটি মাদক মামলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ মাঝেমধ্যে তাদের আটক করলেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সহজে জামিন পাওয়ায় তারা মামলাকেও ভয় করে না। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তারের পর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত তাদের দু'জনকে জামিন দেন।
গ্রেপ্তার কামালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, থানা পুলিশ কিংবা স্থানীয় রাজনৈতিক কোনো নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে কামাল। এরপরও রহস্য উদ্ঘাটন করার জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এসব মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।