মোবাইল নাম্বার ভুল এন্ট্রির কারণে নড়াইলের কালিয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর দেড় শতাধিক ভাতাভোগী ছয় মাস ধরে ভাতা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে বিকাশ হিসাবের মোবাইল নাম্বারে টাকা পাঠানোর নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর মোবাইল নাম্বার এন্ট্রিতে বিকাশ এজেন্টদের গাফিলতি ও ভুল এন্ট্রির কারণে ভাতা পাননি তারা।

মোবাইল নাম্বারটি ভুল এন্ট্রির কারণেই প্রায় ৯০ জনের ভাতার টাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিকাশ হিসাব নম্বরে চলে গেছে। শুধু তাই নয় ৭১ জনের বিকাশের হিসাব নাম্বার অকার্যকর হয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। বিকাশ হিসাবের মোবাইল নাম্বারটি ভুল এন্ট্রি এসব ভাতাভোগীর এবারের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ১ হাজার ৭৫০ জন ভাতাভোগী রয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ জন বয়স্কভাতা, ৫০০ জন বিধবাভাতা ও ৭৫০ জন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রয়েছেন। বিগত দিনে এসব ভাতার টাকা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হতো। চলতি বছর বিকাশ হিসাব নম্বরের মাধ্যমে ভাতার টাকা পরিশোধের নিয়ম চালু করার পর ভাতাভোগীদের মোবাইলে বিকাশ হিসাব খোলাসহ মোবাইল নাম্বার সংগ্রহের জন্য উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে একজন করে বিকাশ এজেন্ট নিয়োগ করা হয়। তারা ভাতাভোগীদের নামে বিকাশে হিসাব খোলাসহ মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দেন। কিন্তু নির্ধারিত এজেন্টরা মোবাইল নাম্বার এন্ট্রিতে ভুল করার কারণে প্রায় ৯০ জনের ভাতার টাকা অন্যের মোবাইল নাম্বারে চলে গেছে। এছাড়া উপজেলায় বয়স্কভাতার ৪২, বিধবাভাতার ১৩ ও প্রতিবন্ধী ভাতার ১৫ জনসহ ৭১ জন ভাতাভোগীর বিকাশ হিসাব অকার্যকর হয়ে রয়েছে। ভুল এন্ট্রির কারণে এসব ভাতাভোগী ছয় মাস ধরে ভাতার টাকা পাচ্ছেন না বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের বয়স্কভাতাভোগী ওহাব খাঁ, রামনগর গ্রামের রিজিয়া বেগম, বেন্দারচর গ্রামের সুফিয়া বেগম, বাকা গ্রামের জামিলা বেগম, নিধিপুর গ্রামের সজীব খানসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, তারা নির্ধারিত বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে বিকাশে হিসাব খোলাসহ সব কিছু ঠিক করেছেন। তাদের নামের মোবাইল নাম্বারটি ভুল এন্ট্রি করায় গত ছয় মাসের ভাতার টাকা তারা পাননি। বরং তাদের ভাতার টাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিকাশ নম্বরে চলে গেছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। ভুল এন্ট্রি করে ঈদের আগে ভাতার টাকা থেকে বঞ্চিত করে তাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিকাশ এজেন্টরা বিকাশে হিসাব খোলার সময় মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করেছেন। তারা যেভাবে মোবাইল নাম্বারগুলো দিয়েছেন সেভাবেই অফিসে এন্ট্রি করা হয়েছে। এজেন্টরা ভুল এন্ট্রি করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সংশোধন করা হচ্ছে। অকার্যকর হিসাব নম্বরগুলো সঠিকভাবে স্থাপনের কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামীতে উপজেলার কোনো ভাতাভোগীর এ ধরনের সমস্যা থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।