সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে খালাস করা হলো ভারত থেকে আসা ২০০ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন।

স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে রোববার দুপুর ১২টার এই অক্সিজেন খালাস করা হয়।

ভারতের রেলওয়ের 'অক্সিজেন এক্সপ্রেস' দুইশ মেট্রিক টন তরল মেডিকেল অক্সিজেন নিয়ে শনিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। রাতে বেনাপোল হয়ে ট্রেনটি রোববার সকাল ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে সয়দাবাদ স্টেশনে আসে।

এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ ও সিভিল সার্জন ডা. দেবপ্রদ রায়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেতুর পশ্চিম পাড়ে উপস্থিত ছিলেন।
আমদানি করা প্রতিষ্ঠান‘লিনডে বাংলাদেশ লিমিটেড’র পক্ষে কোম্পানির আর্ন্তজাতিক রিলেশন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক সুফিয়া আকতার ওয়াহাব এই তরল মেডিকেল অক্সিজেন গ্রহণ করেন।

১০টি কন্টেটেইনারে আনা এই তরল মেডিকেল অক্সিজেন খালাস করার পর কোম্পানির নিজস্ব ১০টি গাড়িতে পরিবহন করা হয় বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ভারত থেকে সরাসরি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এভাবে তরল অক্সিজেন আমদানি করাটা দেশে এটাই প্রথম। দেশের করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে এ ধরনের অক্সিজেন আমদানি করাটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

সিভিল সার্জন ডা. দেবপ্রদ রায় বলেন, দেশের জটিল করোনা রোগীদের ফুসফুস সংক্রামণে জরুরি ভিত্তিতে শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ব্যবহারে এ তরল অক্সিজেন জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যুক্ত করা হবে।

লিনডে বাংলাদেশ’র আর্ন্তজাতিক রিলেশন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক সুফিয়া আকতার ওয়াহাব বলেন, ‘আমরা এর আগেও ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি করেছি। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে আমদানি করাটা বাস্তবে

সত্যিই অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে তরল অক্সিজেন আনার জন্য উভয় দেশের প্রশাসনসহ আমদানিসহ ইমিগ্রেশন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেসে’ কোনো প্রতিবেশি দেশে তরল অক্সিজেন পাঠাল ভারত। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল থেকে ভারতের অভ্যন্তরে এ অক্সিজেন এক্সপ্রেস ট্রেন সেবা চালু হয়। এ বিশেষ ট্রেনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে ৪৮০টি অক্সিজেন এক্সপ্রেস ভারতের অভ্যন্তরে চলাচল করছে। অক্সিজেন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে আনা চালানটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগে অক্সিজেনের মজুদ উল্লেযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

এই অক্সিজেন চলমান কভিড-১৯ মোকাবিলায় ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।