সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনা স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সিলেটে ভুয়া সাংবাদিকসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৯। গ্রেপ্তারকৃতরা ফেসবুকে বিভিন্ন নামে পেইজ খুলে জালালাবাদ সেনানিবাসে অগ্নিকান্ডের মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেন।

রোববার সন্ধ্যায় সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, জনমনে ভীতি সঞ্চারের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃতরা এই গুজব ছড়িয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা গুজব ছড়ানোর দায় স্বীকার করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানোর ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সিলেটের মেন্দিবাগ নোয়াগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. আশফাকুররহমান (৩২), সদর উপজেলার পীরের চক গ্রামের আলা উদ্দিন আলাল (৪৭), গোলাপগঞ্জের মজিদপুর গ্রামের রেজা হোসাইন (২০), বানীগ্রামের সোহেল আহমদ (২৬), বাঘীরঘাটের আবুল কাশেম (৩৫), দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই গ্রামের রাজন আহমদ (২৮) ও সদর উপজেলার আটপিয়ারি গ্রামের মোক্তার হোসেন মান্না (২৮)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারের পর সবাইকে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ২২ জুলাই মধ্যরাতে সিলেটের আকাশে আগুনে শিখা দেখা যায়। নগরীর লাক্কাতুরা এলাকায় বহুজাতীয় তেল কোম্পানি শেভরনের নিয়ন্ত্রনাধীন গ্যাসক্ষেত্রে সংস্কারের সময় অতিরিক্ত ফায়ার ফ্লো’র জন্য আকাশে আগুনের শিখা দেখা যায়। তবে ফেসবুকে অনেকে প্রচার করেন, সিলেট সেনানিবাসের বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। ভয়াবহ এই আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন মিথ্যাচারের ফলে নগরী ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিংয়ের সময় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন-৯ সিলেটের সাইবার মনিটরিং টিম ‘মুরাদপুর আর্মি ক্যাম্পে আগুন’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজবের প্রচারণা দেখতে পায়। তৎক্ষণাৎ র‌্যাব-৯ এর সাইবার মনিটরিং টিম র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের সহায়তায় উক্ত গুজবের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে র‌্যাব-৯ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান সাপেক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা গুজবের প্রচারণার দায়ে তাদেরকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।